কল্লোল আহমেদ, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটে ঔষধের বাজার, মূল্য নির্ধারণ এবং সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঔষধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল খালেক। তিনি বলেছেন, সরকার নির্ধারিত এমআরপি (Maximum Retail Price) মূল্যের বেশি দামে কোনো ফার্মেসি ঔষধ বিক্রি করতে পারবে না। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের এমআরপি রেটেই বিক্রি করতে বাধ্য করার যে চেষ্টা চলছে, সেটিকেও বেআইনি উল্লেখ করে তিনি সম্ভাব্য সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বুধবার লালমনিরহাট ঔষধ প্রশাসন কার্যালয়ে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান মেরাজ ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মনির হোসাইন ও স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আবদুল খালেক বলেন, সম্প্রতি একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রকাশিত না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “এমআরপি হলো সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য। এর বেশি দামে ঔষধ বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে এমআরপির নিচে কমিশন বা ছাড় দিয়ে বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের নিজস্ব বিষয়।”
তিনি আরও জানান, জেলার কিছু এলাকায় সমিতির নাম ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের ওপর এমআরপি ম্যাক্সিমাম রেটেই ঔষধ বিক্রি করতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাজারে এক ধরনের অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, “কোনো সমিতি বা গোষ্ঠী ব্যবসায়ীদের ওপর এমআরপি রেটেই বিক্রি করতে বাধ্য করতে পারে না। এটি বেআইনি। যদি এ ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে সেটিকে সিন্ডিকেট হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং তা ভেঙে দেওয়া হবে।”
ঔষধ প্রশাসনের এই কর্মকর্তা জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদি কোনো সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাহলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক নিজেও এ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবেন।
আলোচনার সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা জেলার ঔষধ সরবরাহ পরিস্থিতি, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ফার্মেসির ওপর সমিতির প্রভাব নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন। জবাবে আবদুল খালেক বলেন, বর্তমানে লালমনিরহাটে অধিকাংশ প্রয়োজনীয় ঔষধের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগ থাকলেও সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “ঔষধ বাজার একটি সংবেদনশীল খাত। এখানে কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মূল্য আদায় বা সমিতির নামে চাপ প্রয়োগ—কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বাজার সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মহল এমআরপি রেটেই ঔষধ বিক্রি বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা করছে। এতে ছোট ব্যবসায়ীরা সংকটে পড়ছেন এবং বাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
সবশেষে ঔষধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, “লালমনিরহাটে ঔষধ সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে সঠিক তথ্যের ওপর ভরসা করার আহ্বান জানাচ্ছি।