• ঢাকা |

লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট, সেবা বঞ্চিত ৩ লাখ মানুষ


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৭ আগস্ট, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

মুনছুর আলী, লামা (বান্দরবান):বান্দরবান জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লামা উপজেলা আজ চিকিৎসক ও সেবিকার চরম সংকটে ধুঁকছে। সরকারি হিসেবে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালিসহ প্রায় ৩ লাখ মানুষের বসবাস। অথচ এতো বড় জনগোষ্ঠীর জন্য ৫০ শয্যাবিশিষ্ট লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন, আর ২৭ জন সেবিকার স্থলে রয়েছেন মাত্র ৭ জন।

জনবল সংকটে ধুঁকতে থাকা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের মানুষকেও সেবা দেয়। ফলে সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক ও সেবিকারা হিমশিম খাচ্ছেন প্রতিদিনকার দায়িত্ব পালনে।

২০২৩ সালের ভয়াবহ বর্ষায় বন্যার পানিতে হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন, এনেস্থেশিয়া মেশিন, ইসিজি মেশিনসহ অপারেশন থিয়েটারের সকল যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আজ পর্যন্ত সেগুলোর পুনঃস্থাপন করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় দরিদ্র ও অসহায় জনগণ।

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম বলেন,

“সামান্য দুর্ঘটনায় আহত রোগী বা প্রসূতি মায়ের চিকিৎসার জন্য অনেক সময় কক্সবাজার বা চট্টগ্রামে পাঠাতে হয়। কিন্তু এখানকার অধিকাংশ মানুষ গরীব হওয়ায় অন্যত্র গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তাই দ্রুত চিকিৎসক, সেবিকা ও অন্যান্য জনবল নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।”

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন,“পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হন অনেকে। প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে ২০০-৩০০ রোগী সেবা গ্রহণ করেন এবং অভ্যন্তরীণ বিভাগে শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী একজন চিকিৎসকের দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ জন রোগী দেখার কথা।”

তিনি আরও জানান, জনবল সংকটের কারণে বিশ্রামের সুযোগ পান না তারা, এবং ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সেবিকারাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সিনিয়র সেবিকা নিলীমা রানী বলেন,“প্রচণ্ড চাপের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।”উল্লেখযোগ্যভাবে, এখানে দীর্ঘদিন ধরে ডেন্টাল, চক্ষু, মহিলা ও শিশুরোগসহ প্রসূতি বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই।

ভর্তিকৃত রোগী মৌসুমী বেগম, আনোয়ার হোসেন ও রিংরং মুরুং জানান,“বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়ার্ডগুলো অন্ধকারে ডুবে যায়। টয়লেটগুলো অপরিষ্কার, দরজা-জানালার অধিকাংশই অকেজো। সেবিকারা অমানবিক পরিশ্রম করছেন।”

পৌর কাউন্সিলর মো. সাইফুদ্দিন জানান,“দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও দরিদ্র মানুষ ন্যায্য চিকিৎসা পাচ্ছেন না। ওষুধ সংকট লেগেই আছে, এমনকি সাধারণ সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়া, টাইফয়েডের ওষুধও মেলে না।”

মানবাধিকার কর্মী এ রুহুল আমিন বলেন,“এই জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।”

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে লামাবাসী বলছেন, ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আর অবহেলা সহ্য করা হবে না।