মোরশেদ আলম: জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন আলহাজ্ব মুফতি মাওলানা আব্দুল হান্নান। ২৯ বছর ২ মাস ৭দিন শিক্ষকতার ইতি টানলেন তিনি। এ সময়ের মধ্যে পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনদিনই প্রাতিস্ঠানিক নিয়মনীতি লংঘন করেননি। সময়ের দিকে লক্ষ্য রেখেই তার দ্বীনি কাজের দুরন্ত পথচলাকে আরোও সহযোগিতা করেছেন আলহাজ্ব মুফতি মাওলানা আব্দুল হান্নান এর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ধলসা পয়ারী ওমর ফারুক দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আজিজুর রহমান।
নাড়ির সাথে সম্পর্ক স্থাপিত ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী শিক্ষক কর্মচারীরা তাকে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় জানালেন। এদিনের মাধ্যমে তিনি ধলসা পয়ারী ওমর ফারুক দাখিল মাদ্রাসা সহকারী মৌলভী হিসাবে ২৯ বছরের শিক্ষকতা পেশার পরিসমাপ্তি ঘটালেন। শুধু শিক্ষকতা নয়। শিক্ষকতার পাশাপশি তিনি কুষ্টিয়ার আলেমদের সুশৃংখলভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখতে আলেমদের সংগঠন করেছেন। দ্বীনের দায়ী হিসাবে কোরআনের দাওয়াত নিয়ে ছুটে চলেছেন বাংলার আনাচে কানাচে। তার এ পরিশ্রম স্বার্থক হয়েছে বলে মনে করেন সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের বৃহৎ ইসলামী সংগঠনের অধীনে আলেমদের সংগঠনে তৎপর হয়ে কাজ করছেন।
তিনি ইসলামী সংগঠনকে ভালোবাসেন। এ সংগঠনকে ভালোবেসেই বিভিন্ন সময়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হিকমাতের সাহায্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি যেকারণে তার উপর জুলুম নির্াতনও কম হযনি। তিনি এখনও বাতিল বিরোধী কমিটি গঠন করে দ্বীনি হেফাজতে কাজ করে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে কওমী ও আলিয়া ঘরানার আলেমদের সাথে বুকে বুক মিলিয়ে কাজ করে চলেছেন। তার এসব কর্মকান্ডেেএলাকার তৌহিদী জনতার তার কাছে ঋণী বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন অনেকেই।
জানা যায়, ওয়াজ নসিহতসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশ জাতির খেদমতে বাংলাদেশ জাতীয় মুফাস্সীর পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন আলহাজ্ব মুফতি আব্দুল হান্নান। সমাজকর্ম ও আত্মকর্ম সংস্থানে সফল ইমাম হিসাবে তিনি এলাকার সকল শ্রেনীর মানুষের মাঝে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমলার মাহদীর কেন্দ্রিয় জামে মসজিদে দীর্খ ৪ দশক ধরে তিনি খতিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইমাম প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি মৎস্য চাষ, বনায়ন, স্যানিটেশন ও মানব সম্পদ উন্নয়নে কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছেন। মিরপুর উপজেলার ধলসা পয়ারী হযরত ওমর ফার“ক দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করেন। দেশ-বিদেশে ওয়াজ নসিহত করে সমাজ সংস্কারেও অবদান রেখে চলেছেন। বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে মহদীপুর গ্রামকে মডেল গ্রাম হিসাবে তিনি উপহার দিয়েছেন।
মুফতি আব্দুল হান্নান ইসলামী মুল্যবোধ, আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমুলক কাজে বিশেষ অবদান রাখায় ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৯বার জেলার শ্রেষ্ঠ ইমাম হিসাবে পুর“স্কার পেয়েছেন। বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়েও তিনি পুর“স্কার লাভ করেছেন। আলহাজ্ব মুফতি আব্দুল হান্নান বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড, সমাজ সংস্কারক হিসাবে কাজ করছেন। মুফাস্সির পরিষদের জেলা, বিভাগীয় নেতা হিসাবে অত্র অঞ্চলের আলেম উলামাদের সমবেত করে দেশ ও জাতির খেদমত করেছেন। বর্আতমানে ্লআলেমদের সংগঠন মাজালিসুল মুফাস্মসীরিন ্দএর সাথে কাজ করে যাচ্রছেন। সমাজসেবায় তিনি উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রেখে যাচ্ছেন।
একজন ইমাম হিসাবেও তার অবদান কম নয়। আমলা খয়েরপুর, মহদীপুর জামে মসজিদে প্রায় ৪ দশক যাবত খতিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন তিনি ইসলামী সংগঠনের মাধ্যমে নিজেকে শপথের আলোকে ওপারে পাড়ি দিতে চান।
আলহাজ্ব মুফতি আব্দুল হান্নান সাহেবের উত্তরোত্তর কল্যাণ কামনা করেছেন হক্কানী দরবারের পরিচালক মাওলানা খালিদ হোসাইন সিপাহী। দেশ জাতির কল্যাণে আলহাজ্ব মুফতি আব্দুল হান্নান এর কর্মকান্ড হোক দেশবাসী আলেমদের অনুকরণীয় এ প্রত্যাশা সকলের।