• ঢাকা |

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের পুনরুত্থানের শঙ্কা: ক্যাম্পে পানি-বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে পুলিশ-র‌্যাব


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর স্থাপিত দুটি অস্থায়ী ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনরত প্রায় ২০০ জন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। টানা ২৩ দিন ধরে তারা নিরাপদ খাবার পানি, বিদ্যুৎ ও মানসম্মত খাবারের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করাও প্রশাসনের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে সন্ত্রাসীদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড। রাতের আঁধারে একাধিকবার পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, ফলে ক্যাম্পে থাকা সদস্যদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় অভিযানের পর কিছুদিন নিস্তব্ধ থাকলেও আবার ধীরে ধীরে সংগঠিত হচ্ছে সন্ত্রাসীরা। চাঁদাবাজি, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি, পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলছে। অভিযানের পর পালিয়ে গেলেও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যরা ছদ্মবেশে এলাকায় যাতায়াত করছে বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, গত ৯ মার্চ প্রায় চার হাজার সদস্যের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানের পর চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়ে যায়। তবে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন এখনও গ্রেপ্তার হয়নি এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা নিয়মিত এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।

এদিকে ক্যাম্পে দায়িত্বরত সদস্যরা জানান, বিদ্যুতের অভাবে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে, মোবাইল চার্জ দিতে পারছেন না নিয়মিত। তাঁবুতে রাতযাপন, অনিরাপদ পানি সংগ্রহ এবং পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আশপাশে মানসম্মত খাবার বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও সহজলভ্য নয়।

আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ। সন্ত্রাসীদের ভয়ে স্থানীয় সোর্সরা সহযোগিতা করতে অনীহা প্রকাশ করছে। ফলে অভিযানের পরও অনেক মূল আসামি অধরা রয়ে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে র‌্যাব কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব হত্যা মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারীও।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি উন্নয়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, দ্রুত পানি সংকট নিরসনে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন এবং ক্যাম্পের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি এক অভিযানে সন্ত্রাসীদের হাতে র‌্যাব কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এখনো বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামি গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছে।