• ঢাকা |

খুলনা ওয়াসার ৫৫০ কোটি টাকার এডিবি ফান্ডের কাজ নিয়ে নানা অভিযোগ


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনা ওয়াসা গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে সম্প্রসারণ এলাকাগুলিতে ডিএমএ এবং মিটার পরিষেবা সংযোগসহ পাইপ নেটওয়ার্ক নির্মাণ কাজের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। প্রকল্পটি এডিবি ফান্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এই টেন্ডারের কয়েকটি শর্তাবলি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। 

খুলনা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এই কাজের বিষয়ে কিছু মূল্যায়ণ শর্তাবলী (যোগ্যতা) এমনভাবে চাওয়া হয়ছে যা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই প্রযোজ্য। এই সব আয়োজনের ভিত্তি হলো, তাদের টেন্ডার ডকুমেন্ট ও বিল অব কোয়ান্টিটি (বিওকিউ) এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে তাতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস বা এডিবির গাইড লাইন অনুযায়ী করা হয়নি। এই কাজের সর্বোচ্চ পাইপের সাইজ ৫০০ এমএম উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ৫০০ এমএম কাজের জন্য ১০০০ এমএম কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে খুলনা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এই রকম শর্ত দেওয়ার কারণ হচ্ছে সন্দেহজনক।

টেন্ডার ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করে সেকশন ৬ এর ইমপ্লোয়ার্স রিকোয়ারমেন্ট (ইআরকিউ) এর ১.৬  ম্যানুফ্যাকচারার্স এক্সপ্রিয়েন্স ম‍্যাটারিয়েল্স এইচডিপিই পাইপস অ্যান্ড ফিটিংস এ দেখা যায় যে, সর্বনিম্ন ১০০০ এমএম উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যানুফ্যাকচারার্স অভিজ্ঞতা ১০ বছর থাকতে হবে বলে জানানো হয়েছে। যা শুধুমাত্র দেশের একটি কোম্পানির আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানই এমন প্রকল্পে ১০০০ এমএম পাইপের কাজ করেছে। তাই এই টেন্ডারে এমন সব শর্ত রাখা হয়েছে যাতে কেবল তাদেরই নির্বাচন করার সুযোগ তৈরি হয়।

বাংলাদশে কিংবা অন্যান্য দেশে অভিজ্ঞতা ক্রাইটেরিয়া সাধারণত মূল কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তৈরি করা হয়। যাতে কাজটি সম্পূর্ণ করার মতো সকল প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করতে পারে। কিন্তু এই টেন্ডরে মূল্যায়ণ নীতি মালা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেখানে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই বাদ পড়ে যায়। এই মূল্যায়ণ এর মাধ্যমে কাজটি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং এক ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। 

এই ধরনের বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার মাধ্যমে ওয়াসার পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। কাজের ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে। দুর্নীতির মাধ্যমে এই ভাবে টেন্ডার কল করলে দেশের অনেক ক্ষতি হবে।

এ বিষয়ে খুলনা ওয়াসার এমডি মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, এটা ফাইল দেখে বলতে হবে। আজকে তো শুক্রবার। আপনি সোমবারে ফোন দিয়েন।

এখানে প্রশ্ন উঠে যে, খুলনা ওয়াসার এমডি মুহম্মদ কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত টেন্ডার নোটিশ পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও বিষয়টি তার নলেজে না থাকার কারণটি কি খামখেয়ালি নয়? তাহলে খুলনা ওয়াসা পরিচালনা করছে কে?

খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালা বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না।  কারণ টেন্ডার দেওয়ার সঙ্গে আমি যুক্ত নই। আমি টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক। টেন্ডার হয়ে গেলে এর মূল্যায়নের কাজে আমি যুক্ত। টেন্ডারে কী কী শর্ত দেওয়া হয়েছে- এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং এমডি ভালো বলতে পারবেন।

খুলনা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী  খান সেলিম আহম্মদ বলেন, এই শর্তের জন্য কোনো কোম্পানির টেন্ডার সাবমিট করতে সমস্যা হবে না। এটা হচ্ছে যার কাছ থেকে পাইপ কিনবেন, সেই কোম্পানির পাইপের এই কোয়ালিটি থাকতে হবে৷ এক্ষেত্রে ঠিকাদারের টেন্ডার দিতে কোনো সমস্যা হবে না।