এমএম রহমাতুল্লাহ: রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ফার্মগেট-তেজগাঁও আর ঢাকার প্রবেশদ্বার যাত্রাবাড়ী-ডেমরা— এই দুই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ ও ঢাকা-৫ আসন। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই দুই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
ঢাকার দুটি বৃহৎ পাইকারি বাজার কাওরান বাজার ও যাত্রাবাড়ী আড়ৎ এই দুই এমপির নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত। অভিযোগ রয়েছে, শুধু কাওরান বাজারেই প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে চাঁদাবাজরা। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম বড় দুই বাস টার্মিনাল সায়েদাবাদ এবং গাবতলীও এই দুই আসনের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে নিয়মিত চাঁদা তোলা হয় বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন।
ভোটের পেছনের বার্তা: স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই আসনে মানুষ শুধু প্রার্থীর চেহারা দেখে ভোট দেয়নি। জামায়াতের নিজস্ব ভোটব্যাংকও এখানে জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ঢাকার মানুষ স্পষ্টতই চাঁদার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা দাঁড়িপাল্লায় আস্থা রেখেছেন। তাদের বিশ্বাস, কেবল দাঁড়িপাল্লার লোকেরাই চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারবে।
দায় ও প্রত্যাশা: এখন প্রশ্ন উঠেছে— জামায়াতের এমপির আসনে প্রতিদিন এক কোটি টাকার চাঁদা উঠছে, তা-ও একটি আড়তে। এই চাঁদা কারা নেয়, তা সবাই জানলেও দায় শেষ পর্যন্ত জামায়াতের এমপির ওপরই বর্তায়। তিনি কেন নিজের আসনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারছেন না— এই প্রশ্ন ভোটারদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভোটাররা যদি হতাশ হয়, তবে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বরং চাঁদাবাজি বন্ধ করাকে একপ্রকার যুদ্ধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর এই যুদ্ধটা দুই এমপিকেই করে যেতে হবে।
সম্ভাব্য করণীয়: সংসদীয় আসনের জনশক্তি দিয়ে চাঁদাবাজদের মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হলে পুরো ঢাকায় ছড়িয়ে থাকা জামায়াত-শিবিরের জনশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে। প্রশাসন সহযোগিতা না করলে কিংবা চাঁদাবাজদের স্পেস দিলে নিরপেক্ষ মিডিয়াকে কৌশলে কাজে লাগানোর কথাও উঠে এসেছে। মিডিয়া খুঁজে বের করুক কারা চাঁদা নেয়, কত টাকা নেয় এবং চাঁদাবাজির নেপথ্যে কারা আছে। প্রমাণসহ তাদের চরিত্র জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানানো হচ্ছে।
সাফল্য-ব্যর্থতার প্রভাব: যদি দুটি আড়ৎ চাঁদাবাজমুক্ত করা যায়, তবে শুধু ওই বাজারের ব্যবসায়ীদের নয়, পুরো দেশের মানুষের আস্থা বাড়বে যে ‘জামায়াত চাঁদাবাজি করে না এবং করতেও দেয় না।’ বিপরীতে এই দুই জায়গায় ব্যর্থ হলে মানুষ আস্থা হারিয়ে জামায়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্দোলনের ইতিহাস ও প্রত্যাশা: দুই এমপিরই আন্দোলন-সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সারাজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করে শহীদ হওয়ার প্রেরণা জোগানো বক্তব্য দিয়েছেন তারা। এখন ভোটাররা চান— এবার অন্তত এই যুদ্ধে তারা নিজেরা জিতুন, নয়তো শহীদ হয়ে পুরো জাতিকে জিতিয়ে দিয়ে যান।
সুপরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করে সমাধানের পথ তৈরি করতে পারলে জামায়াতের প্রতি মানুষের আস্থা শতগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।