• ঢাকা |

লালমনিরহাটে শিশুদের আনন্দমুখর শিক্ষা: বর্ডার গার্ড স্কুলের উদ্যোগ


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৫ মে, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

কল্লোল আহমেদ নিজস্ব প্রতিবেদক: লালমনিরহাটে কোমলমতি শিশুদের জন্য আনন্দমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (০৫ মে) সকাল ১১টায় প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মিডিয়ার সামনে এ উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের অধিনায়ক।

তিনি বলেন, বর্তমান যুগের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিশুদের শেখার প্রতি আগ্রহী করে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বিশ্বমানের শিক্ষাপদ্ধতির আদলে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে বিদ্যালয়ে আসবে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিক্ষা গ্রহণ করবে।

অধিনায়ক আরও জানান, শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে শ্রেণিকক্ষে গোল টেবিলভিত্তিক বসার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে শিশুরা একে অপরের মুখোমুখি বসে শেখার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের মধ্যে সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক মূল্যবোধ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তুলতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হয়েছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ক্যান্টিন, যেখানে প্রশিক্ষিত কর্মীদের তত্ত্বাবধানে শিশুদের জন্য পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করা হচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই নতুন উদ্যোগে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও আশাবাদী। শিক্ষার্থীরা জানায়, নতুন পদ্ধতিতে ক্লাস করা তাদের কাছে অনেক বেশি আনন্দদায়ক হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ ও শিক্ষকদের আন্তরিক আচরণেও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন অভিভাবকরা।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বিজিবির অধিনায়ক একজন মিডিয়া বান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেন এবং বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগে গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, সৃজনশীল ও স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যেখানে তারা শুধু পড়াশোনাই নয়, বরং নিজেদের সম্ভাবনাকে পূর্ণভাবে বিকশিত করতে পারবে।

শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও শিশুবান্ধব করে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।