সংবাদ প্রতিবেদন: ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের সমালোচনা করে শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন।
রাজধানীতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিকে কেন্দ্র করে ০২ জুন ২০২৬ তারিখে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সুপারিশ গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, বিদ্যুৎ খাতে লোকসানের দায় সাধারণ জনগণের ওপর চাপানো একটি পুরোনো প্রবণতা, যা অতীত ও বর্তমান—উভয় সরকারের আমলেই দেখা গেছে।
বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। অনেক জায়গায় দিনে মাত্র অল্প সময় বিদ্যুৎ থাকছে, বাকি সময় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং চলছে। তিনি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও মাতামুহুরী উপজেলায় সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা “চরম অব্যবস্থাপনার” মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ঈদুল আজহার ছুটির সময় সরকার বিদ্যুৎ ঘাটতির কথা অস্বীকার করলেও বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীনতার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। তবে একই সময়ে কিছু শহর ও বিভাগীয় শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গ্রামীণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে তিনি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর (পিবিএস) কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ঝড়-বৃষ্টি বা সামান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগেই গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে তা স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন লেগে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, আরইবি দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকলেও তাদের সক্ষমতা, জনবল ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এর ফলে শতভাগ বিদ্যুতায়নের সুফল সাধারণ মানুষ পুরোপুরি পাচ্ছে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের ৪৬২টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনাকারী পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অধীনে প্রায় ৫ লাখ ৩৭ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইন রয়েছে এবং প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ গ্রাহক এতে অন্তর্ভুক্ত। তবে ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা এবং নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে গ্রামীণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এস এম নাজের হোসাইন বিদ্যুৎ খাতে শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে অবকাঠামোগত আধুনিকায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।