• ঢাকা |

দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পুরস্কার, যুবদলের কেন্দ্রীয় দায়িত্ব সহ-সভাপতি ফেরদৌস মুন্না


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৫ জুন, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

বিশেষ প্রতিবেদক: দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের (যুবদল) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ফেরদৌস আহমেদ মুন্না।

দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন, একাধিকবার কারাবরণ এবং ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা তাঁর রাজনৈতিক জীবনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি এ পদোন্নয়ন।

চট্টগ্রামের হালিশহরের বাসিন্দা ফেরদৌস আহমেদ মুন্না ছাত্রজীবনেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সাংস্কৃতিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হল ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সভাপতি হিসেবেও নেতৃত্ব দেন।

দীর্ঘ ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা নিয়ে পরবর্তীতে তিনি যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর সর্বশেষ কমিটিতে তাঁকে সহ-সভাপতির পদে মনোনীত করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর আন্দোলন-সংগ্রামে ফেরদৌস আহমেদ মুন্না ছিলেন রাজপথের একজন সক্রিয় সংগঠক। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করেন। রাজনৈতিক মামলা ও নানা ধরনের চাপের মুখেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি।

নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দল ও আদর্শকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। আন্দোলনের কঠিন সময়ে রাজপথে অবস্থান, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে তাঁর প্রতি দলের কর্মীদের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে।

শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন কৃতী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর (এমএসএস) ডিগ্রি অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক বিষয়ে তাঁর একাডেমিক জ্ঞান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ ফেরদৌস আহমেদ মুন্না তথ্যপ্রযুক্তি, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং জনসংযোগ কার্যক্রমেও পারদর্শী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিকাশ এবং সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছেন।

যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “জাতীয়তাবাদী আদর্শ, গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে যুবসমাজকে সংগঠিত করে একটি শক্তিশালী, গণমুখী ও আদর্শভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ছাত্রদল থেকে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উত্তরণ, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার সমন্বয়ে ফেরদৌস আহমেদ মুন্নার এই নতুন দায়িত্ব জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে তাঁর পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।