ক্রীড়া ডেস্ক: ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন থেকে মাত্র কয়েক মিনিট দূরে ছিল মিসর। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল আফ্রিকার দলটি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে লিওনেল মেসিদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে হার মেনে শেষ হয় ফারাওদের স্বপ্নযাত্রা।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে ৬৭ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বাধীন মিসর। তবে শেষ ১০ মিনিটে তিন গোল করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
বিদায়টা হতাশার হলেও ২০২৬ বিশ্বকাপ মিসরের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এবারের আসরে দলটি নিজেদের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে।
গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম, ইরান ও নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলে রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় মিসর। এরপর শেষ ষোলোয় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নেয় তারা।
আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিলেও একাধিক নতুন রেকর্ড গড়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। এবারই প্রথম বিশ্বকাপের এক আসরে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে মিসর। একই সঙ্গে পাঁচ ম্যাচে করা ৮ গোলও বিশ্বকাপের একক আসরে দেশটির সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।
পুরো টুর্নামেন্টে মিসরের পারফরম্যান্স ছিল ধারাবাহিক। পাঁচ ম্যাচে তারা দুটি জয়, দুটি ড্র ও একটি হার পেয়েছে। একমাত্র হারটি এসেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে সাহসী ও লড়াকু ফুটবল খেলে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে সালাহর দল।
মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও ইতিহাস গড়েছে মিসর। ফিফার নতুন প্রাইজমানি কাঠামো অনুযায়ী, দলটি পেয়েছে ১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৬ কোটি টাকা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই মিসরের সর্বোচ্চ আর্থিক প্রাপ্তি।