• ঢাকা |

গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি মারা প্রতিবাদে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল: জড়িতদের বিচার ও নিরাপদ ভোটের দাবি


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে বিএনপি কর্মী কর্তৃক এক গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি মারার ঘটনায় এবং নারীদের হেনস্থা এবং জামায়াত সমর্থিত কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলা মহিলা বিভাগ। বিক্ষোভ মিছিলটি সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাউফল সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে স্থানীয় হাজার-হাজার নারী অংশগ্রহণ করেন।

বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পটুয়াখালী-২ আসনে ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “মা-বোনদের নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না”। আমাদের শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতে মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।” তিনি নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা আগামী ১২ তারিখ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। আপনাদের নিরাপত্তায় আমরা পাহারাদার হিসেবে পাশে থাকবো।”

সমাবেশে নারী নেত্রী ডা: জাকিয়া ফারহানা “প্রশাসন, মানবাধিকার সংগঠন এবং নারী অধিকার নিয়ে যারা কথা বলে এবং কাজ করে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, একজন গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি মারার মতো বর্বর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এই ঘটনায় যারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন, তাদের প্রতি ধিক্কার জানাই।” তিনি আরও বলেন, “আমরা নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই, যাতে নারীরা নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। ভয় দেখিয়ে, হামলা চালিয়ে আমাদের দমন করা যাবে না। নারীরা জুলাই বিপ্লবে ভূমিকা রেখেছে—হুমকি ও চোখ রাঙানি দিয়ে আমাদের ঘরে বন্দি করা যাবে না।”

উল্লেখ, গতকাল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একটি নির্বাচনী মিছিল চলাকালে বিএনপির একটি অংশ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। ঘটনায় মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাউফল থানার ওসির পদত্যাগের দাবিতে থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে জামায়াতে ইসলামী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে স্থানীয় থানা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।