ফিরোজ মাহবুব কামাল
জিহাদে অনীহা এবং অর্জিত আযাব
ব্যক্তির চেতনা, চরিত্র ও কর্মের পরিশুদ্ধির জন্য ইসলামের বাধ্যতামূলক বিধান হলো পবিত্র কুর’আনের জ্ঞান, নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও তাসবিহ তাহলিলের ন্যায় ইবাদত। অপর দিকে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় বিপ্লবের মূল হাতিয়ার হলো ইসলামী রাষ্ট্র, ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা, শরিয়ার বিচার, দুর্বৃত্তির নির্মূল এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার জিহাদ। ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা এবং সে রাষ্ট্রকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য চাই লাগাতর জিহাদ। জনগণের জীবনে জিহাদ না থকলে কখনোই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পায় না, তখন বাঁচা ও বেড়ে উঠার জন্য জনগণ পায় না কোন পরিশুদ্ধ ও সহায়ক রাষ্ট্রীয় পরিবেশ। তখন রাষ্ট্র দুর্বৃত্ত শক্তির দখলে থেকে যায়। তখন বিজয়ী হয় জনগণকে জাহান্নামে নেয়ার শয়তানী প্রকল্প। তখন ব্যর্থ হয় মানবকে জান্নাতে নেয়ার আল্লাহ তায়ালার প্রকল্প। তখন প্রেক্ষাপট নির্মিত হয় আযাবের -যেমন এ দুনিয়ায়, তেমনি আখেরাত। তাই ইসলামে কুর’আনের জ্ঞানার্জন, নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও তাসবিহ তাহলিল যেমন ফরজ, তেমনি ফরজ হলো ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদ। নবীজী (সা:)’য়ের আমলে পরিশুদ্ধ ব্যক্তির নির্মাণ ও পরিশুদ্ধ রাষ্ট্রের নির্মাণ -এ দুটি প্রকল্প একত্রে কাজ করতো। সে প্রক্রিয়া বহাল ছিল খোলাফায়ে রাশেদার সময়ও। ফলে ঈমানদার ব্যক্তি নির্মাণ ও ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণ -ইসলামের এ দু’টি এজেন্ডাই সেদিন সফল হয়েছিল। অথচ আজ এ দুটি প্রকল্পের কোনটি কাজ করছে না। ব্যক্তির পরিশুদ্ধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারটি হলো কুর’আনের জ্ঞান। কিন্তু সে জ্ঞান দেয়ার কাজটি দেশের স্কুল কলেজে হচ্ছে না। তেমনি রাষ্ট্র পরিশুদ্ধির হাতিয়ার যে ইসলামী রাষ্ট্র -সেটিও কোথাও বেঁচে নাই। ফলে ব্যর্থতা উভয় ক্ষেত্রে। ফলে মুসলিম উম্মাহ ইতিহাস গড়ছে ব্যর্থতায়।
জিহাদ মূলত তিন প্রকারের; এবং এর রয়েছে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্র। প্রতি ক্ষেত্রেই জিহাদের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন হাতিয়ার। জিহাদের প্রকার হলো: এক). বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ; এ জিহাদের মূল অস্ত্রটি পবিত্র কুর’আন এবং কুর’আনের জ্ঞান লব্ধ দর্শন ও প্রজ্ঞা। মহান আল্লাহ তায়ালা সুরা ফুরকানের ৫২ নম্বর আয়াতে এ জিহাদকে জিহাদে আকবর বলে অভিহিত করেছেন। মু’মিনের জিহাদ অন্য দু’টি ক্ষেত্রের জিহাদে কতটা সফল হবে সেটি নির্ভর করে এ বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদে সফল হওয়ার উপর। কারণ এ জিহাদ যেমন নিজের চেতনার ভূমিকে মিথ্যা দর্শনের অধিকৃতি থেকে মুক্তি করে তেমনি রাষ্ট্রের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গণে শত্রুশক্তির আগ্রাসনকে পরাস্ত করে। এ জিহাদ রাজনৈতিক ও সশস্ত্র জিহাদের জন্য আদর্শিক ভিত্তি ও প্রশিক্ষিত সৈনিক প্রস্তুত করে। দুই). রাজনৈতিক জিহাদ। বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদের ন্যায় এ জিহাদটিও নিরস্ত্র। এ জিহাদ সংঘটিত হয় রাজনৈতিক অঙ্গণে; এবং এ জিহাদের অস্ত্র হলো ঈমানাদারের কুর’আনী জ্ঞান, অর্থ, শ্রম, মেধা, রাজনৈতিক সংগঠন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, প্রশিক্ষণ ও প্রজ্ঞা এবং সেসাথে সংগঠিত ও উজ্জীবিত জনগোষ্ঠি। সে সাথে চাই শত্রুকে চেনা, শত্রুর শক্তি ও কৌশল নিয়ে সম্যক ধারণা; এবং চাই বন্ধুদের চেনা এবং তাদের সাথে কোয়ালিশন গড়ার সামর্থ্য। ঈমানদারকে শুধু জ্ঞানবান ও মুত্তাকী হলে চলে না, তাকে রাজনৈতিক অঙ্গণেও সেরা কৌশলী ও সংগঠক হতে হয়। নইলে ব্যর্থতা অনিবার্য। রাজনৈতিক দক্ষতার অভাবে বহু ন্যায়পরায়ন মুত্তাকী ব্যক্তিও জিহাদের এ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গণে ব্যর্থ হয়ে যায়। তিন). রণাঙ্গণের সশস্ত্র জিহাদ। এ জিহাদের হাতিয়ার হলো বিপুল অর্থ, উন্নত রণকৌশল, সর্বাধুনিক অস্ত্র এবং সুসংগঠিত ও প্রশিক্ষিত বিশাল মুজাহিদ বাহিনী।
রাজনীতিকে সেক্যুলারিস্ট, ন্যাশনালিস্ট, সোসালিস্ট, নাস্তিক ও অমুসলিমগণ যে ভাবে দেখে, সত্যিকার ঈমানদারগণ বিষয়টিকে সেভাবে দেখে না। রাজনীতিকে অন্যরা পেশা, নেশা ইত্যাদি যাই ভাবুক না কেন, ইসলামে এটি পবিত্র জিহাদ তথা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডা একটি দেশে কতটা বিজয়ী হবে, কতটা প্রতিষ্ঠা পাবে তাঁর সার্বভৌমত্ব ও শরিয়া আইন এবং বিশ্বের দরবারে মুসলিমগণ কতটা মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে -সেটি সে দেশের মুসলিম জনসংখ্যা ও মসজিদ মাদ্রাসার সংখ্যার উপর নির্ভর করে না। সেটি নির্ভর করে সে দেশের মুসলিমগণ আল্লাহ তায়ালার পথে জিহাদ নিয়ে কতটা বাঁচে -তার উপর। তবে মুসলিমের রাজনীতি মাত্রই জিহাদ নয়; সে রাজনীতি বিশেষ কোন ব্যক্তি বা দলের এজেন্ডাকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে হতে পারে। জিহাদ তো তাই -যার লক্ষ্য স্রেফ মহান আল্লাহতায়ার এজেন্ডাকে বিজয়ী করা। যে দেশের রাজনীতিতে জিহাদ নাই, সে দেশে ইসলামের বিজয় বা প্রতিষ্ঠাও থাকে না। সেখানে বিজয়ী হয় ইসলামের শত্রুপক্ষ। মহান আল্লাহ তায়ালার দেয়া আইনের বদলে তখন প্রতিষ্ঠা পায় কাফির, মুনাফিক ও ফাসিক চক্রের রচিত আইন ও তাদের সার্বভৌমত্ব।
পবিত্র কুর’আনে মু’মিনদের প্রতি মহান আল্লাহ তায়ালার যে হুকুমটির বার বার ঘোষিত হয়েছে সেটি শুধু নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাতের নয়, সেটি হলো “জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ” তথা আল্লাহ তায়ালার পথে জিহাদ’য়ের। সেয় জিহাদ হলো মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডাকে বিজয়ী করার। মাহে রমজানের রোজার হুকুম পবিত্র কুর’আনে মাত্র একবার এসেছে। সেটি সুরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে। তাতেই রোজা ফরজ হয়ে গেছে। কিন্তু যে “জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ”র হুকুম পবিত্র কুর’আনে অসংখ্য বার এসেছে সে জিহাদের ফরজ আজ ক’জন মুসলিম পালন করছে? নবীজী (সা:)’য়ের যুগে কোন সাহাবীর জীবনে এ হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ দেখা যায়নি। কোন রূপ অনীহা দেখা যায়নি। তাদের প্রত্যেকে সশস্ত্র জিহাদে অংশ নিয়েছেন; অর্ধেকের বেশি সাহাবা শহীদ হয়ে গেছেন। ফলে মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডা সেদিন বিজয়ী হয়েছে। এবং প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ইসলামী রাষ্ট্র। সে জিহাদেরই ফল হলো, বিজয় শুধু ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাঝে থেমে থাকেনি, মুসলিমদের উত্থান ঘটেছে বিশ্বশক্তি রূপে। অথচ আজকের মুসলিমগণ বাঁচছে ফরজ জিহাদের বিরুদ্ধে অনীহা বা বিদ্রোহ নিয়ে। সেদিনের মুসলিমদের থেকে আজকের মুসলিমদের মূল পার্থক্যটি এখানেই; সে পার্থক্যটি টুপি দাড়ি, ওজু গোছল, কুর’আন তেলাওয়াত, নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাতের নয়।
প্রতিটি ঈমানদারকে যেমন রাজনীতি নিয়ে বাঁচতে হয়, তেমনি সে রাজনীতিতে মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে বিজয়ী করার নিয়তও থাকতে হয়। তখন সে রাজনীতি শুধু রাজনীতি থাকে না, পবিত্র জিহাদে পরিণত হয়। আগুনের পরিচয় যেমন তার উত্তাপে, তেমনি ঈমানদারের পরিচয় হলো তার রাজনৈতিক জিহাদে। তবে মুমিনের রাজনীতির এজেন্ডাটি তাঁর নিজের নয়, কোন নেতা বা দলেরও নয়। সেটি খোদ মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বেঁধে দেয়া। পবিত্র কুর’আনে সে এজেন্ডাটি সুরা তাওবাহ, সুরা ফাতাহ ও সুরা সাফ’য়ায় ঘোষিত হয়েছে। সেটি হলো:
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ
অর্থ: “তিনি তাঁর রসূলকে পথ নির্দেশ ও সত্যধর্ম নিয়ে প্রেরণ করেছেন, যাতে এ দ্বীন সকল ধর্মের উপর বিজয়ী হয় -যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।”
প্রতিটি ঈমানদারের দায়িত্ব হলো, সে এজেন্ডার বিজয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার সার্বক্ষনিক সৈনিক হয়ে যাওয়া। প্রচণ্ড বেঈমানী হলো, মহান আল্লাহ তায়ালার সে ঘোষিত এজেন্ডার সাথে গাদ্দারী। অধিকাংশ মুসলিম দেশে চলছে এ বেঈমানদের শাসন। সেটি বুঝা যায়, মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডার সাথে তাদের গাদ্দারী দেখে। সে গাদ্দারীর প্রমাণ, ৫০টি বেশি মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পেলেও কোন ইসলামী রাষ্ট্র নির্মিত হয়নি -যেমন নির্মিত হয়েছিল নবীজী (সা:)’য়ের হাতে। এ ব্যর্থতার কারণেই মুসলিম দেশগুলিতে প্রতিষ্ঠা পায়নি মহান আল্লাহ তায়ালার দ্বীন তথা তাঁর সার্বভৌমত্ব ও শরিয়া আইন। বরং প্রতিষ্ঠা পেয়েছে জাতীয়তাবাদ, ফ্যাসিবাদ, গোত্রবাদ, রাজতন্ত্র, সেক্যুলারিজম, পুঁজিবাদের ন্যায় জাহিলিয়াত।
রাজনীতি: সর্বশ্রেষ্ঠ হাতিয়ার নেক আমলের এবং শক্তিশালী হাতিয়ার অপরাধেরও
আধুনিক আরবি ভাষায় রাজনীতিকে বলা হয় “সিয়াসা”। ইসলামী শব্দমালায় এটি এক নতুন পরিভাষা। নবীজী (সা:)’য়ের যুগে সিয়াসা শব্দের ব্যবহার ছিল না। পবিত্র কুর’আনেও সিয়াসা শব্দের উল্লেখ নজরে পড়ে না। তবে রাজনীতির নামে আজ যা কিছু হয়, সেটি নবীজী (সা:)’য়ের যুগেও ছিল। রাজনীতি বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা, রাষ্ট্রের অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার নিরাপত্তা এবং সে রাষ্ট্রে বসবাসকারী জনগণের জান মাল ও ইজ্জতের সুরক্ষা। সে সাথে রাজনীতির দায় হলো দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও অবকাঠামো নির্মাণ, আইনের শাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে নানাবিধ বিধি প্রণয়ন ও সেগুলির বাস্তবায়ন। তবে ঈমানদারকে রাজনীতিতে অবশ্যই আরেকটি বাড়তি দায় নিতে হয়। সেটি হলো, রাজনীতিকে মহান আল্লাহর ভূ-রাজনৈতিক ও ধর্মীয় এজেন্ডাকে বিজয়ী করার হাতিয়ারে পরিণত করতে হয়। তখন রাজনীতি শুধু রাজনীতি থাকে, পবিত্র জিহাদে পরিণত হয়। দেশ সামনে এগুবে না পিছনে যাবে -সেটি মসজিদ মাদ্রাসা থেকে নির্ধারিত হয় না, নির্ধারিত হয় রাজনীতির অঙ্গণ থেকেই।
তবে রাজনীতির অঙ্গণটি কখনোই কোন খালি জায়গা নয়; পুরোপুরি এক পক্ষেরও নয়। সেখানে নানা পক্ষ থাকে; নানা পক্ষের নানাবিধ এজেন্ডাও থাকে। প্রতিটি পক্ষই লড়াই করে নিজেদের এজেন্ডাকে বিজয়ী করা নিয়ে। এ কারণেই রাজনীতির অঙ্গণে সর্বদাই একটি যুদ্ধাবস্থা থাকে। মুসলিম দেশের সে যুদ্ধাঙ্গণে ঈমানদারগণও একটি প্রবল পক্ষ। তাদের এজেন্ডা হলো ইসলামকে বিজয়ী করা এবং মহান আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া আইনের প্রতিষ্ঠা দেয়া। তখন লাগাতর জিহাদ শুরু অন্যায় ও অবিচারের নির্মূল এবং ন্যায় ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠায়। সে জিহাদে যারা নিহত হয়, তাদেরকে শহীদ বলা হয়।
নবীজী (সা:)’য়ের যুগে জিহাদই ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল এবং মুসলিমদের বিশ্বশক্তির মর্যাদায় আসীন করেছিল। ঈমানদারদের রাজনীতি তাই কখনো সেক্যুলার রাজনীতি বা নিছক “সিয়াসা” হয় না; সেটি হয় পবিত্র জিহাদ। জিহাদ তো একমাত্র সে লড়াইকেই বলা হয়, যেখানে থাকে মহান আল্লাহতায়ার এজেন্ডাকে বিজয়ী করার খালেছ নিয়ত। সে পবিত্র নিয়ত মু’মিনের রাজনীতিকে ইবাদতে পরিণত করে। রাজনৈতিক অঙ্গণের সে লড়াইকে শুধু রাজনীতি বা “সিয়াসা” বললে সে পবিত্র এজেন্ডাটি প্রকাশ পায়না। তখন সেটি আর ইবাদত থাকেনা। এ জন্যই নবীজী (সা:) ও সাহাবাদের যুগে সিয়াসা’র ন্যায় সেক্যুলার রাজনৈতিক পরিভাষা বাজার পায়নি -যেমনটি আজ পেয়েছে। ঈমানদারদের কাছে বৈধ আইন মাত্র একটিই -সেটি হলো শরিয়া আইন। শরিয়া বিরোধী কোন আইন মানলে কাফির হতে হয়। তেমনি রাজনীতির অঙ্গণেও একমাত্র হালাল রাজনীতি হলো জিহাদের রাজনীতি। যে রাজনীতিতে জিহাদ নাই, সে রাজনীতি কখনোই হালাল হতে পারে না। সে রাজনীতি হারাম -যা জাহান্নামের সিঁড়ি। এমন হারাম রাজনীতিতে অর্থ, মেধা ও রক্তের ন্যায় মহান আল্লাহর দেয়া কোন নিয়ামতের বিনিয়োগ হতে পারে না। মুসলিম দেশগুলিতে সে হারাম রাজনীতির নমুনা হলো, জাতীয়তাবাদী, ফ্যাসিবাদী, দলবাদী, রাজতন্ত্রী ও বামধারার রাজনীতি। পরিতাপের বিষয় হলো, মুসলিম দেশগুলিতে এ হারাম রাজনীতিই বিজয়ী। ফলে বাংলাদেশের ন্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে বিজয়ী হয়েছে শয়তানের এজেন্ডা এবং পরাজিত হয়েছে মহান রব’য়ের এজেন্ডা। এজন্যই প্রতিষ্ঠা পায়নি ইসলামী রাষ্ট্র।
রাজনীতি যেমন সর্বশ্রষ্ঠ নেক আমলের হাতিয়ার হতে পারে, তেমনি হতে পারে ভয়ানক অপরাধ কর্মের হাতিয়ার। মানব ইতিহাসে সে দৃষ্টান্তে ভরপুর। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বড় নেক কর্মগুলি কৃষক, শ্রমিক, তাঁতি, ডাক্তার, ইঞ্জিনীয়ার বা কবি-সাহিত্যিকদের হাতে হয়নি, সেগুলি হয়েছে রাজনীতিবিদদের হাতে। বড় বড় রাষ্ট্র, নগর বন্দর ও সভ্যতার নির্মাতা তো তারাই। অপরদিকে মানব ইতিহাসের নৃশংসতম জুলুম, গণহত্যা, বর্ণগত নির্মূলও চোর ডাকাত ও খুনিদের হাতে সংঘটিত হয়নি, বরং সেগুলি হয়েছে রাষ্ট্রনায়কদের হাতে। রাজনীতি একটি তরবারির ন্যায়। এটি যেমন মানব হত্যার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে, তেমনি ব্যবহৃত হতে পারে প্রাণ বাঁচানোর কাজেও। ইসলামের কৃতিত্ব হলো রাজনীতিকে রাজনীতির স্তরে রাখেনি, বরং এটিকে জিহাদে তথা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতে পরিণত করেছে। মুসলিমদের আজকের পরাজয় ও বিপর্যয়ের কারণ, ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ এ ইবাদত পরিণত হয়েছে অপরাধ ও স্বার্থশিকারের হাতিয়ারে। রাজনীতি জিম্মি হয়েছে অপরাধীদের হাতে।
রাজনীতি শুধু রাষ্ট্র নির্মাণ, রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাষ্ট্রকে প্রতিরক্ষা দেয়ার হাতিয়ার নয়, বরং সেটি হলো নানা ভাষা, নানা বর্ণ, নানা ধর্ম ও নানা অঞ্চলের মানুষের মাঝে সৌহার্দ্য, সম্প্রতি ও সংহতি গড়ার হাতিয়ারও। যখন পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন রাষ্ট্র ছিল না তখন মানবের মাঝে ছিল পরিবার ও গোত্র ভিত্তিক বিভক্তি। তখন ছিল না কোন রাজনীতি। ফলে গড়ে উঠেনি কোন মানবিক সংহতি ও সভ্যতা। রাজনীতি দেয় জনগণের জীবনে ভিশন, দেয় বাঁচবার মিশন এবং জন্ম দেয় একতা ও সংহতির প্রেরণা। দেয় শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এজেন্ডা। ইসলামী রাষ্ট্র ও তার রাজনীতির কারণেই আরবের শতধা বিভক্ত গোত্রগুলি একতাবদ্ধ হয়ে এক বিশ্বশক্তিতে পরিণত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। যে দেশে বা যে ভূমিতে সুস্থ রাজনীতি নাই, মানুষ সেখানে বিভ্রান্তি, বিভক্তি এবং বিচ্যুতির শিকার; এবং জনগণ সেখানে গোত্র, বর্ণ, দল, নেতা ও ভাষার নামে রক্তাক্ত সংঘাতে নামে। ১৯৭১’য়ে পাকিস্তান ভেঙে গেছে মূলত রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে, পাকিস্তানের ভূগোল ও তার জলবায়ুর কারণে নয়। কারণ তখন রাজনীতির চালকের আসনে বসেছিল ফ্যাসিস্ট মুজিবের ন্যায় এক ভারতীয় চর ও দুর্বৃত্ত। এমন কি সে বাঙালি জনগোষ্ঠিকেও একতাবদ্ধ রাখতে পারিনি। সে ব্যর্থতার কারণে বাঙালিদের হাতেই তাকে নিহত হতে হয়। অথচ কায়েদে আযম মহম্মদ আলী জিন্নাহর ন্যায় সৎ ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির নেতৃত্বের কারণে বাঙালি, পাঞ্জাবি, পাঠান, সিন্ধি, বেলুচ, বিহারি, গুজরাতি এরূপ নানা ভাষায় বিভক্ত মুসলিমগণ ১৯৪৭’য়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দিতে পেরেছিল। সুস্থ রাজনীতি এভাবেই বিস্ময়কর কাজ সমাধা করতে পারে। অথচ মুজিব ও হাসিনার ন্যায় অপরাধীরা রাজনীতিকে অপরাধের হাতয়ার বানিয়ে নেয়।
রাজনীতি হলো পরিশুদ্ধি ও সৃষ্টিশীলতার শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার। রাজনীতির মধ্য দিয়েই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিশুদ্ধ হয়; এবং নির্মিত হয় সভ্যতর মানব, কল্যাণকর রাষ্ট্র ও উচ্চতর সভ্যতা। তাই যাদের থাকে দুর্বৃত্তির নির্মূল, সুবিচারের প্রতিষ্ঠা এবং উন্নত ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ার তাড়না, তাদের জন্য রাজনীতি ছাড়া ভিন্ন পথ নাই। তাদের জন্য রাজনীতি কাজ করে শক্তিশালী হাতিয়ার রূপে। নবীজী (সা:)কে তাই রাজনীতির অঙ্গণে দেখা গেছে। তাকে রাষ্ট্র প্রধানের আসনে বসতে হয়েছে। এবং রাজনীতিতে তিনি মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ ও সর্বোত্তম সাফল্যের ইতিহাস রেখে গেছেন। এমন জিহাদের রাজনীতি প্রতি ঈমানদারের উপর ফরজ। এ ফরজ রাজনীতি থেকে দূরে থাকাটি গণ্য হয় মহান রব’য়ের এজেন্ডার সাথে বেঈমানী রূপে। ইসলামকে বিজয়ী করার এ ফরজ রাজনীতিতে না থাকার অপরাধে নবীজী (সা:)’য়ের যুগে আব্দুল্লাহ বিন উবাই ও তার ৩ শত সাথীর ন্যায় নামাজীদের মুনাফিক বলা হয়েছে।
রাজনীতির পবিত্র জিহাদ কাজ করে দুর্বৃত্তির নির্মূল, সুবিচারের প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ থেকে রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও অনৈতিক আবর্জনা সরানোর হাতিয়ার রূপে। ঈমানদার ব্যক্তি সে জিহাদের রাজনীতিতে নিজের অর্থ, শ্রম, মেধা ও রক্তের বিনিয়োগ করে। তখন সে বিনিয়োগের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে শক্তিশালী ইসলামী রাষ্ট্র। যে দেশে ইসলামী রাষ্ট্র নাই, বুঝতে হবে সে দেশের মানুষ জিহাদবিমুখ। বুঝতে হবে, সে দেশের মানুষ ব্যর্থ হয়েছে ইসলামের মূল মিশনটি বুঝতে। এবং ব্যর্থ হয়েছে পূর্ণ ঈমানদার রূপে বেড়ে উঠতে। ফলে সে দেশে লক্ষ লক্ষ মসজিদ ও হাজার হাজার মাদ্রাসা নির্মাণ করেও ইসলামী সমাজ ও সভ্যতা নির্মাণের কাজটি হয়না। হটানো যায়না দুর্বৃত্তদের। এমন দেশে জোয়ার আসে দুর্বৃত্তির। আজকের বাংলাদেশ তো তারই উদাহরণ।
বেঁচে নাই নবীজী (সা)’য়ের রাজনীতি
রাজনীতির তাড়না না থাকাটি যেমন বিবেকহীনতা, তেমনি দায়িত্বহীনতা ও মানবতাশূণ্যতাও। এমন মানুষদের দিয়ে কখনোই কোন সভ্য সমাজ ও সভ্য রাষ্ট্র গড়ে উঠে না। এমন মানুষেরা দুর্বৃ্ত্তের নির্মূল ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠা নিয়ে মাথা ঘামায় না। পশু যেমন শুধু নিজের জন্য বাঁচে, এরাও তেমনি শুধু নিজের জন্য বাঁচে। রাজনীতি ইসলামে সর্বোচ্চ ইবাদত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের মত একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে অধিকাংশ মানুষই রাজনীতিবিমুখ এবং রাজনীতির অঙ্গণে নিষ্ক্রিয়। এমন কি আলেম সমাজ, তাবলিগী জামায়াতের লোকজন ও সুফি ঘরানার লোকেরা। রাজনীতি বলতে অধিকাংশ মানুষ বুঝে স্রেফ নির্বাচনে ভোটদান; এরচেয়ে বেশী কিছু নয়। অথচ রাজনীতিতে যুদ্ধ হয় দেশের উপর দখল নেয়ার লক্ষ্যে। রাজনীতির জিহাদ থেকে হাত গুটিয়ে নিলে দেশের রাজনীতি ও প্রশাসন দখলে যায় বিদেশী শত্রু বা দেশী দুর্বৃত্তদের হাতে। বাংলাদেশে সেটিই হয়েছে। এর পরিনাম, বাংলাদেশে প্লাবন চুরি ডাকাতি, অর্থ পাচার, ব্যাংক লুট, খুন, ঘুষ, সন্ত্রাস ও নানা রূপ দুর্বৃত্তির।
পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশে রাজনীতির জিহাদ থেকে মুসলিমদের দূর রাখা হচ্ছে ধর্মের দোহাই দিয়ে। অনেকে রাজনীতিকে দুনিয়াদারি বলছে। যারা এমন কথা বলে, তাদের অনেকে আবার আশেকে রাসূল (সা:) হওয়ার দাবী করে। দাবী করে নবীজী (সা:)’য়ের সূন্নতের অনুসারী হওয়ার। কিন্তু নবীজী (সা:) যে ১০টি বছর রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন এবং সে রাষ্ট্রের সুরক্ষা দিতে বার বার জিহাদের ময়দানে হাজির হলেন -সে কথাটি তারা বলে না। তাঁর ঘরে যে অনেকগুলি তরবারী, ঢাল ও বর্ম ছিল সে কথা তারা বলে না। নবীজী (সা:)’য়ের রাজনীতির এ সূন্নত যেহেতু অর্থ, শ্রম ও রক্তের কুর’বানী চায় -সে জন্যই এ সূন্নত নিয়ে তারা বাঁচে না। অন্যদেরও সে সূন্নতের দিকে তারা ডাকে না। এটি হলো নবীজী (সা:)’য়ের সূন্নতের সাথে তাদের গাদ্দারী। অথচ নবীজী (সা:)’র এ রাজনৈতিক কর্মগুলি ছিল ইসলামের ফরজ বিধান।
বাংলাদেশে তাবলিগ জামায়াতের বহু লক্ষ লোক। তারাও নবীজী (সা:)’য়ের শিক্ষা নিয়ে বাঁচে না। তারা মানুষকে নামাজে ডাকে, কিন্তু জিহাদে ডাকে না। দেশ থেকে দুর্বৃত্ত শাসকের নির্মূলের কথাও বলে না। যেন মানুষ নামাজী হলেই সমাজ ও রাষ্ট্র ঠিক হয়ে যাবে! কি অদ্ভুত চিন্তা। নামাজী হয়েও যে মানুষ ঘুষ খায়, সূদ খায় ও মিথ্যা বলে -সেটি কি তারা দেখে না? নবীজী (সা:) এবং তাঁর সাহাবাগণ শুধু নামাজী ও রোজাদার ছিলেন না, তারা দুর্বৃত্তদের নির্মূলে বিরামহীন যোদ্ধাও ছিলেন। অথচ পবিত্র কুর’আনের কথা: “যারা রাসূলের অনুসারী তারাই আল্লাহর অনুসারী। -(সুরা নিসা, আয়াত ৮০)। তাই যারা নবীজী (সা:)’য়ের ন্যায় জিহাদে নামেন না -তারা মহান আল্লাহ তায়ালার অনুসারী হয় কি করে? মোল্লা মৌলভী, আলেম আল্লামা ও তাবলিগী হওয়া আর নবীজী (সা:)’য়ের অনুসারী হওয়া যে এক কথা নয় -সেটি বুঝতে কি এরপরও কিছু বাকি থাকে? বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মোল্লা মৌলভী, আলেম আল্লামা ও তাবলিগীদের মাঝে নবীজী (সা:)’য়ের জিহাদ বেঁচে থাকলে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জিহাদ শুরু হতো এবং ইসলামী রাষ্ট্রও প্রতিষ্ঠা পেত। তবে জিহাদকে নবীজী (সা:)’য়ের সূন্নত বললে পুরাটা বলা হয় না। জিহাদ কোন নফল, সূন্নত বা ওয়াজেব পর্যায়ের ইবাদত নয়, বরং এটি সর্বাচ্চ ইবাদত তথা জিহাদ। এটি ফরজ তথা বাধ্যতামূলক। তাই জিহাদ না থাকার অর্থ ঈমান না থাকা -সে কথাটিই বলা হয়েছে সুরা হুজরাতের ১৫ নম্বর আয়াতে।
রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার মধ্য দিয়েই মহান নবীজী (সা:) জিহাদের রাজনীতি তথা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতের অঙ্গণে অনুকরণীয় শিক্ষা রেখে যান। কোন ঈমানদার ব্যক্তি যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসে, তাঁর দায়িত্ব হয় নবীজী (সা:)’য়ের সে মহান রাজনীতিকে অনুসরণ করা। যারা ক্ষমতায় নাই, তাদেরয় দায়িত্ব হয় সেরূপ একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য নবীজী (সা:) যেরূপ জিহাদ করছিলেন -সেরূপ জিহাদে লেগে যাওয়া। বুঝতে হবে নবীজী (সা:)’য়ের গৃহে শুধু জায়নামাজ ছিল না, কোন কোন রেয়ায়েত মোতাবেক তাঁর গৃহে ৯ খানি তরবারি ছিল এবং ছিল ঢাল বর্ম ও বর্শা। শত্রু শক্তির নির্মূলে তিনি নিজে যুদ্ধে নেমেছিলেন এবং আহত হয়েছিলেন। সাহাবাগণ নবীজী (সা:)’য়ের সে নীতিকে পদে পদে অনুসরণ করেছেন। কোন মুসলিম রাষ্ট্র যখন শত্রুশক্তির হাতে অধিকৃত হয় তখন নবীজী (সা)’য়ের এ নীতি পথ দেখায়। কিন্তু নবীজী (সা:)’য়ের সে মহান রাজনৈতিক সূন্নত আজ মুসলিমদের মাঝে বেঁচে নাই। ভূয়া আশেকে রাসূলগণ নবীজী (সা:)’য়ের রাজনৈতিক লিগ্যাসির কথা কখনোই মুখে আনে না। তাদের কথা শুনে মনে হয়, নবীজী (সা:) রাজনীতির ধারে কাছেও ছিলেন না। এভাবেই এসব ভূয়া আশেকে রাসূলগণ ইসলামের লেবাস গায়ে দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামের বিরুদ্ধে নানারূপ নাশকতা। এরা নাই জালেম শাসক নির্মূলের জিহাদে। এরা নাই ইসলামী রাষ্ট্র ও শরিয়া প্রতিষ্ঠার জিহাদে। এরা নাই দুর্বৃত্তমুক্ত একটি সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণের জিহাদে। এসব ভূয়া আশেকে রাসূলগণ বাঁচছে ইসলাম বিরোধী সরকারের সামনে নিষ্ক্রিয়তা ও আত্মসমর্পণ নিয়ে। তাদের অনেককে দেখা যায় স্বৈরশাসকের প্রশংসা গীত গাইতে। বাংলাদেশে কওমী মাদ্রাসার সাথে জড়িত দেওবন্দী আলেমদের একটি দল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ন্যায় খুনি ও ভোটডাকাতকে কওমী জননী খেতাব দিয়েছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রেয়ারির নির্বাচনে শরিয়া বিরোধী এবং আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্ব বিরোধী সেক্যুলার রাজনৈতিক দল বিএনপির সাথে জোট বেঁধেছিল দেওবন্দী আলেমদের দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। প্রশ্ন হলো, রাজনীতির জিহাদে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং স্বৈরশাসকদের কাছে আত্মসমর্পণ করা ও তাদের প্রশংসা গাওয়া কার সূন্নত? ইসলামের শত্রুশক্তির সামনে এরূপ নিষ্ক্রিয়তা ও আত্মসমর্পণ তো কবিরা গুনাহ। কারণ তাতে বিজয়ী হয় ইসলামের শত্রুশক্তি।
মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডার সাথে একমাত্র তাঁরাই একাত্ম হয় যারা তাঁদের প্রতিপালক রবের কাছে নিজেদের জান ও মাল বিক্রয় করেছে জান্নাতের বিনিময়ে। নামাজ রোজা হজ্জ উমরাহ তো বহু ঘুষখোর,য় সূদখোর, মিথ্যাবাদী, স্বৈরাচারী ও ব্যাভিচারীও পালন করে। কিন্তু তারা মহান আল্লাহ তায়ালার রাজনৈতিক এজেন্ডার সাথে একাত্ম হয় না। কারণ, মহান রব’য়ের এজেন্ডাটি তাদের নিজ এজেন্ডার বিপরীত গণ্য হয়। তারা বরং শয়তানের এজেন্ডাকে নিজেদের এজেন্ডা বানিয়ে নেয়। শয়তানের এ এজেন্টদের কারণেই বাংলাদেশের মত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে বিলুপ্ত হয়েছে শরিয়া; এবং প্রতিষ্ঠা পেয়েছে কুফুরি আইন। এবং প্লাবন এসেছে দুর্বৃত্তির। তাদের কারণেই বাংলাদেশে দীর্ঘকাল শাসন চলেছে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ এবং ভারতের সেবাদাসদের। অথচ যারা প্রকৃত ঈমানদার তারা কাজ করে মহান আল্লাহ তায়ালার আনসার তথা সাহায্যকারী রূপে।
মুমিনের উপর মহান আল্লাহ তায়ালার আনসার তথা সাহায্যকারী হওয়ার হুকুমটি এসেছে সুরা সাফ’য়ের ১৪ নম্বর আয়াতে। হুকুমটি যেহেতু মহান আল্লাহ তায়ালার, ফলে সেটি ফরজ প্রতিটি মু’মিনের উপর। সত্যিকার ঈমানদার তো তারাই -যারা সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তায়ালার আনসার। নিজ দেশে শরিয়া যখন বিলুপ্ত, শাসক যেখানে জালেম এবং প্লাবন যেখানে দুর্বৃত্তির, মহান রব’য়ের আনসার কি তখন নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে? আনসারগণ তখন মহান রব’য়ের এজেন্ডার বিজয় আনতে বিনিয়োগ করে তাঁদের সর্ববিধ সামর্থ্যের। সে বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা নিজেদেরকে গড়ে তোলে মহান আল্লাহ তায়ালার মাগফিরাত লাভ ও সে সাথে জান্নাতের যোগ্য রূপে। দেশের রাজনীতিতে ঈমানদারদের এমন বিনিয়োগ না থাকলে প্রতিষ্ঠা পায় দুর্বৃত্ত ও অপরাধীদের দখলদারি। তখন সাধারণ মানুষের জীবন থেকে বিলুপ্ত হয় শান্তি, শৃঙ্খলা এবং জান মালের নিরাপত্তা। তখন একতা ও সংহতির বদলে প্রতিষ্ঠা পায় বিভক্তি ও দলাদলি এবং উৎসবে পরিণত হয় দেশভাঙার ন্যায় নাশকতার কাজ। ১২/০৬/২০২৬