ফারুক আহমেদ, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি: মাগুরা সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুড়িয়া বোর্ড অফিস থেকে পূর্বপাড়া মাঠ পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে চলছে। মাগুরা প্রজেক্টের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে বর্তমানে সাবগ্রেডের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির সাবগ্রেড তৈরির কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা বিভিন্ন পর্যায়ে সড়কের মাটি প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহারের কাজ করছেন।
চলমান কাজের বিষয়ে ঠিকাদার সোহেল রেজা বলেন, সড়কটির সেলভেজের কাজের জন্য প্রাথমিকভাবে ২১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। তবে কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। সে হিসাবে সেলভেজের কাজে মোট ব্যয় প্রায় ২৮ লাখ টাকা হতে পারে।
তিনি বলেন, রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ইটগুলো সরাসরি সড়কের পাশে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কিছুটা দূরে ইট স্টক করে রাখা হচ্ছে। পরে এসব ইট ভেঙে বালির সঙ্গে মিশিয়ে সেলভেজের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ীই সেলভেজের কাজ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঠিকাদার জানান, সড়কের কাজে কামারখালী ও ঘোষিয়াল এলাকার বিট বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়া এবং পাটবোঝাই ঘোড়ার গাড়ি চলাচলের কারণে মাঝে মাঝে নির্মাণকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা প্রজেক্টের আওতায় তিনটি রাস্তার উন্নয়নকাজের জন্য মোট ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আমুড়িয়া বোর্ড অফিস থেকে পূর্বপাড়া মাঠ পর্যন্ত সড়কে বর্তমানে সাবগ্রেডের কাজ চলছে। এ কাজ শেষ হলে পর্যায়ক্রমে সড়কটিতে ডব্লিউবিএম (WBM) এবং পরবর্তী ধাপে কার্পেটিং করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বর্ষা মৌসুমে সড়কটির বিভিন্ন অংশে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে এ সমস্যা অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাত করার সুযোগও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
এলাকাবাসীর মতে, সড়কটির উন্নয়ন শুধু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি নয়, স্থানীয় কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে কৃষিপণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর সুফল পড়বে।
এদিকে মাগুরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ এন এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাফীন সোহেব সরেজমিনে গিয়ে চলমান কাজ পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্টদের আশা, নির্ধারিত ধাপ অনুযায়ী সাবগ্রেড, ডব্লিউবিএম ও কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হলে সড়কটির যোগাযোগব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।