স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইতিহাস গড়তে নামা নরওয়ে প্রথমার্ধে দারুণ লড়াই উপহার দিয়েছে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আলেক্সান্ডার শেলডারুপের অসাধারণ গোলে এগিয়ে গেলেও বিরতির আগে জুড বেলিংহামের নৈপুণ্যে সমতায় ফিরেছে ইংল্যান্ড। ফলে প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে দুই দলের স্কোরলাইন ১-১।
বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নেওয়া নরওয়ে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে। ম্যাচের এক পর্যায়ে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা হ্যারি কেইনের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠে তারা। মাঝমাঠের সেই মুহূর্তটি নিয়ে ফাউলের সম্ভাবনা থাকলেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।
এরপর বল পেয়ে বক্সের বাম দিক থেকে দুর্দান্ত এক শট নেন শেলডারুপ। ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে কোনো সুযোগ না দিয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে। নরওয়ে এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে।
গোলের পর ব্যবধান বাড়ানোর বড় সুযোগও পেয়েছিল নরওয়ে। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে আলেক্সান্ডার শরলথ ও আর্লিং হালান্ড মিলে দুই বনাম এক পরিস্থিতি তৈরি করেন। তবে বক্সে ঢুকে অতিরিক্ত সময় নেওয়ায় সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি হালান্ড। ইংল্যান্ড রক্ষা পায় দ্বিতীয় গোল হজম থেকে।
পিছিয়ে পড়ে ইংল্যান্ডও আক্রমণের ধার বাড়ায়। ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের বাড়ানো বল ধরে বক্সের বাম দিক দিয়ে এগিয়ে যান অ্যান্থনি গর্ডন। তার পাস থেকে বক্সে ঢুকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান জুড বেলিংহাম। রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডারের গোলে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড।
এরপর ইংল্যান্ড এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও পেয়েছিল। গোলরক্ষককে একা পেয়ে হ্যারি কেইনের চিপ শট জালে প্রবেশ করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। ফলে প্রথমার্ধ শেষে কোনো দলই এগিয়ে থাকতে পারেনি।
ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা নরওয়ে প্রথমার্ধে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডও দেখিয়েছে কেন তারা অন্যতম ফেবারিট। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে দ্বিতীয়ার্ধের লড়াইয়ে।