রায়হান আহমেদ, ব্যুরো প্রধান ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ অঞ্চলে সম্ভাব্য শক্তিশালী ভূমিকম্পের মতো বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় বিকল্প ও টেকসই জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক উদ্ধার কৌশল নিয়ে একটি ব্যাপক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়।
এ্যামেচার রেডিও এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ARAB)-এর কারিগরি সহযোগিতায় এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ময়মনসিংহ বিভাগের ‘দি লাইফ সেভিং ফোর্স’-এর বাস্তবায়নে এই কর্মসূচি পালিত হয়। উল্লেখ্য, দেশব্যাপী ৮টি বিভাগে যুগপৎভাবে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জনসচেতনতা এবং শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ: ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে জনসচেতনতা তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয় এই আয়োজনে। মহড়ায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী এবং সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
এছাড়া স্থানীয় একদল উদ্যমী স্বেচ্ছাসেবক (ভলান্টিয়ার) সক্রিয়ভাবে মহড়ায় অংশ নেন। তরুণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবকদের এই ব্যাপক উপস্থিতি জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্যোগের সময় সম্মিলিতভাবে কাজ করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার কৌশল ও লাইন সার্চ পদ্ধতি:
ভৌগোলিক অবস্থান ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ময়মনসিংহ শহর ভূমিকম্পের দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়টি মাথায় রেখে মহড়ায় ভূমিকম্প-পরবর্তী বাস্তবভিত্তিক উদ্ধার কার্যক্রমের প্রদর্শন করা হয়।
প্রাথমিক মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা: ভূমিকম্পের পর কোনো ভবন বিধ্বস্ত হলে প্রথমে এর চারিপাশের পরিবেশ ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে উদ্ধার কাজ শুরু করার কৌশল দেখানো হয়।
লাইন সার্চ পদ্ধতি (Line Search Method): ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া বা নিখোঁজ ভিকটিমদের নিখুঁত ও দ্রুততম সময়ে সনাক্ত করতে প্রশিক্ষিত দলগুলো সুশৃঙ্খল ‘লাইন সার্চ পদ্ধতি’ প্রয়োগ করে।
প্রতিবন্ধকতা অপসারণ ও উদ্ধার: লাইন সার্চের মাধ্যমে ভিকটিমের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করার পর ভারী কংক্রিট, লোহা বা অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা নিরাপদে অপসারণ করে আহতদের দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার বাস্তব কৌশল তুলে ধরা হয়।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উদ্ধার কার্যক্রমের সমন্বয়
মহড়ায় ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেটসহ প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর বা সীমিত হয়ে পড়লে জরুরি তথ্য আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে যোগাযোগ কীভাবে সচল রাখা যায়, তার অনুশীলন দেখানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে উদ্ধার কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে আসে। তাই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি কমাতে শুধু উদ্ধার কার্যক্রম নয়, বরং আগাম প্রস্তুতি, লাইন সার্চ পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগ এবং নির্ভরযোগ্য বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জানে আলম। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জেলা কমান্ডার পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী, পিএফএম এবং মহড়া বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন, পিএফএম। এছাড়া ফোরম্যান মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র স্টেশন অফিসার মুহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ কবিরুল আলম ও মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন ও মোহাম্মদ হাবিজুর রহমান এবং সহকারী যোগাযোগ প্রকৌশলী মোহাম্মদ মিজানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের মহড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় ও জনসচেতনতা আরো জোরদার করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।