চট্টগ্রাম ব্যুরো :চট্টগ্রাম মহানগরী অন্যতম চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম হোমিওপ্যাথিক কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ এক যুগ যাবৎ অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদটি শুন্য রয়েছে। এতে কলেজের পাঠদানসহ প্রশাসনিক সকল কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে। অন্যদিকে শীর্ষ পদ ২ টি শূন্য থাকার সুবাদে একটি অসাধু চক্র সিন্ডিকেট করে জগদ্দল পাথর চেপে বসে কলেজে নিয়োগ বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন উৎস থেকে আযকৃত অর্থ তসরূপ সহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করছে অপ্রতিরোধ্য ভাবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম হোমিওপ্যাথিক কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগ না দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দীর্ঘদিন যাবত অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়ায় কলেজ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
জানাযায়, চট্টগ্রাম হোমিওপ্যাথিক কলেজ হাসপাতালে ২০০৬ পূর্ন প্রতিস্টা করেন অধ্যাপক ডাঃ চন্দন দও। এরপর তিনি উপাধ্যক্ষ এবং ডাঃ দুলাল কান্তি চৌধুরী কে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু অধ্যক্ষ দুলাল কান্তি চৌধুরীকে কলেজের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত ১৩-৮ ১৪ সালে বোর্ড কর্তৃপক্ষ সাসপেন্ড করেন। হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের তদন্তে দুলাল কান্তি চৌধুরী কলেজের ৮৩৪০৭৫/ (আট লক্ষ চৌএিশ হাজার পচাওর টাকা) আত্মসাৎ করেন৷ উক্ত টাকা কলেজ ফান্ডে জমা দেয়ার নির্দেশনা দিলে নানা গডিমসির আশ্রয় নিয়ে সে টাকা অদ্যাবধি জমা দেননি। এ ব্যাপারে বোর্ড থেকে বার বার তাগাদা দেয়া সত্বেও দুলাল কান্তি চৌধুরী তা কর্ণপাত করছেন না। অন্যদিকে দুলাল কান্তি চৌধুরীকে অপসারণের পর হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের অনুরোধে কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ১১ /১১/২০১৪ সালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ ইমতিয়াজকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করেন। পর্যায়ক্রমে আরো কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট এই দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফাহামুন নবী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন।
জানাযায়, হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের তৎকালীন রেজিস্টার ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম গত ১৪ /৫ /২০১৭ সালে এক পত্রে কলেজের ম্যানেজিং কমিটির গত ১৪/২/২০১৭ এর সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপাধ্যক্ষ ও কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সচিব ডাক্তার চন্দন দত্তকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করার নির্দেশনা প্রদান করলে ও সেই নির্দেশ রহস্যজনক কারনে এখনো কার্যকর করা হয়নি। বরং কলেজে ঘাপটি মেরে থাকা একটি অশুভ চক্র নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ডাঃ চন্দন দত্তের বিরুদ্ধে নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। অপরদিকে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে অপসারিত তৎকালীন অধ্যক্ষ দুলাল কান্তি চৌধুরী ২০১৪ সালে তার অনুসারী ডাক্তার গোলাম হোসেনকে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেন। এখনো পর্যন্ত তিনি সে পদে বহাল রয়েছেন। দীর্ঘ ১১ বছর যাবত এই পদে থেকে তিনি কলেজে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটিকে অন্ধকারে রেখে অফিস সহকারী (করনিক) বিবি মরিয়মকে গত ০১/ ১২/ ২০১৩ সালে মেডিকেল অফিসার এবং পরবর্তীতে সিনিয়র মেডিকেল অফিসের করে ম্যানেজিং কমিটিতে সংযুক্ত করেছেন। কলেজ অধ্যক্ষ, কলেজ প্রতিনিধি এবং সাবেক বোর্ড রেজিস্টার জাহাঙ্গীর আলম আর্থিক ভাবে লাভবান হয়ে পরস্পর যোগসাজশ এর মাধ্যমে বিবি মরিয়মকে বিধিবহির্ভূত ভাবে এ নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়া শিক্ষক প্রতিনিধি গোলাম হোসেন নিজের স্ত্রী মোছাম্মৎ নাসরিন সুলতানা কে কম্পাউন্ডার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। অথচ কলেজে কম্পাউন্ডার এর কোন পদ নেই। কিন্তু বোর্ড রেজিস্টার অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এই পদটি সৃষ্টি করেন।
বর্তমানে চট্টগ্রাম হোমিওপ্যাথিক কলেজ হাসপাতালে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও প্রকৃত শিক্ষক প্রতিনিধি না থাকার কারণে ঐতিহ্যবাহী এই চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নানাবিধ সমস্যায় যেমন জর্জরিত, তেমনি কলেজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে চলছে নানামুখী অনিয়ম ও দুর্নীতি। এতে কলেজের শিক্ষা সুষ্ঠু পরিবেশ, সুনাম এবং ঐতিহ্য নষ্ট হচ্ছে।
চট্টগ্রামের সচেতন মহল অবিলম্বে ঐতিহ্যবাহী এই কলেজে ঐতিহ্য রক্ষা এবং শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জরুরী ভিত্তিতে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও কলেজ দরদী শিক্ষক প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানান।