• ঢাকা |

নড়াইলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঔষধ চুরির প্রতিবাদে মানববন্ধন


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী ,নড়াইল থেকেঃ নড়াইলের কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধ চুরিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার (১৩ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণের ব্যানারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য দেন কালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক স ম ওয়াহিদুজ্জামান মিলু,পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ সেলিম হোসেন,পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মনা,উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক স ম রাকিবুজ্জামান পাপু,স্থানীয় ইমরান হোসেন,রবিউল সর্দার প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন,কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত কয়েকজন কর্মচারী অনিয়ম,দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সঙ্গে জড়িত। তারা সুকৌশলে হাসপাতাল থেকে দামি ওষুধ চুরি করে নিয়ে যায়। আর সাধারণ রোগীরা এসে ঠিকমতো ওষুধ পায় না। গতকাল শনিবার (১২ জুলাই) হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের এক কর্মী ওষুধ চুরি করতে গিয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিকের কাছে ধরা পড়ে।

এছাড়া কর্মকর্তাদের গাফিলতি কারণে দীর্ঘদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের টেন্ডার হয় না। যার ফলে জনগণ ওষুধ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সম্প্রতি অনিয়মের মাধ্যমে জনপ্রতি ২ লাখ করে টাকা নিয়ে আউটসোর্সিংয়ে ৮ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে,যারা কাজের নয়। অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ না দিয়ে কাজের মানুষকে নিয়োগ দিলে মানুষ ভালো সেবা পেত। ইমরান হোসেন বলেন,আমার স্ত্রীকে অস্ত্রপাচারের জন্য ওই হাসপাতালে এনেছিলাম। সেখানে কর্মচারীরা অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। সিজার করতে আসা প্রত্যেক রোগীর সাথে একই কাজ করে।
স ম ওয়াহিদুজ্জামান মিলু বলেন,এসব ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করি,আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন করার আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেবে। আর আউটসোর্সিংয়ে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, পুনরায় সেসব পদে যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন,তিনি যোগদানের পূর্বে দীর্ঘদিন ধরে তার পদে কোনো কর্মকর্তা ছিলেন না। এ কারণে অফিসের স্টাফদের বেতন, ওষুধের টেন্ডারসহ অর্থনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়নি ওই সময়। আমি যোগদানের পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারি,ওই টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। পরবর্তীতে নিয়মানুযায়ী অন্য প্রক্রিয়ায় ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে।

এখন পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। আর আউটসোর্সিংয়ের কর্মী নিয়োগ সিভিল সার্জন অফিস থেকে হয়। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। ওষুধ চুরির ব্যাপারে ওই কর্মকর্তা বলেন,বিষয়টি খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। এটি তদন্ত করে দেখা হবে। আর আজ থেকে আমাদের স্টাফদের ওষুধ দেওয়া আপাতত বন্ধ করা হয়েছে। কারো প্রয়োজন হলে যাচাই-বাছাই করে তাকে পরিমাণ মতো ওষুধ দেওয়া হবে।

এছাড়া অন্যান্য অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মো. আবদুর রশিদ বলেন,আউটসোর্সিংয়ের কর্মীদের নিয়োগ হয় ঠিকাদারের মাধ্যমে।

এ প্রক্রিয়ায় আমি বা আমার অফিসের কেউ কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নন। স্বচ্ছতার সঙ্গে আমরা আমাদের কাজ করেছি। তবে ঠিকাদার যদি কারও থেকে কোনো লেনদেন করে থাকেন,সে ব্যাপারে তথ্যপ্রমাণ পেলে ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করা হবে।