• ঢাকা |

প্রিয়তার নামে লেখা এক ব্র্যান্ডের চিঠি


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৬ আগস্ট, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

Dear Priyota

অনেক কিছুই শুরু হয় ব্যবসার হিসাব-নিকাশে। আবার কিছু কিছু শুরু হয় হৃদয় থেকে—ভালোবাসা আর দায়বদ্ধতা থেকে। ‘Dear Priyota’ সেই দ্বিতীয় ধারার গল্প—যেখানে একটি ব্র্যান্ড হয়ে ওঠে স্মৃতি, অনুভব আর স্বপ্নের মিশেলে তৈরি এক নির্ভরতার নাম।

এই অনন্য যাত্রার পেছনে আছেন একজন স্বপ্নবাজ মানুষ—সাজ্জাদুল ইসলাম তুষার।
একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দেশে-বিদেশে প্রায় সাত বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর। বহু গার্মেন্টস, ব্র্যান্ড আর বাজার বিশ্লেষণের পর, তিনি দেখেছেন—প্রযুক্তির অগ্রগতি যতই হোক, বিশ্বাস আর আন্তরিকতা যখন হারিয়ে যায়, তখন মানুষ আর পণ্যের মধ্যে সম্পর্কও দুর্বল হয়ে পড়ে।

সেখান থেকেই তিনি শুরু করেন ‘Dear Priyota’। এটি কেবল একটি নারীকেন্দ্রিক ব্র্যান্ড নয়, বরং এটি এক নারীর ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা, তাঁর পছন্দ, স্বপ্ন ও অনুভবকে সম্মান জানিয়ে তৈরি এক চিঠি। ‘Dear Priyota’ তাই শুধু একটি নাম নয়—একটা আবেগ, একটি বার্তা:
"তোমার কথা মনে রেখেই বানানো।"

এই ব্র্যান্ডের পেছনে শুধু তুষার একা নন, বরং রয়েছে এক বিশ্বস্ত টিম—যারা প্রতিদিন আন্তরিকতা, যত্ন এবং সততার সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁদের একটাই লক্ষ্য—একটি নারীর প্রয়োজন ও ভালোবাসার সঠিক প্রতিফলন যেন প্রতিটি প্রোডাক্টে পাওয়া যায়।

‘Dear Priyota’-এর পথচলার শুরু হয়েছিল কিছু ব্যথা থেকে। ইউরোপের প্রবাসী বাংলাদেশিরা বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিলেন—তাঁদের জন্য দেশি থ্রিপিস কিংবা শিশুদের জন্য মানসম্মত ট্র্যাডিশনাল পোশাক পাওয়া খুবই কঠিন। অন্যদিকে, বাংলাদেশে অনলাইন বাজারে প্রতারণা, ভুল তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রি করা, এবং “দেশি প্রোডাক্টকে ইমপোর্টেড” বলে চালানোর মতো অনৈতিক প্রবণতা দিনদিন বেড়েই চলেছে।

এই দুই বাস্তবতা থেকেই তুষারের মনে জন্ম নেয় এক দৃঢ় প্রতিজ্ঞা—একটি এমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে মানুষ নির্ভর করতে পারবে চোখ বন্ধ করে, এবং যেখানে একজন নারী নিজের সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস এবং পরিচর্যার সবকিছু খুঁজে পাবে এক জায়গায়।

বর্তমানে ‘Dear Priyota’-এর অফিস রয়েছে বাংলাদেশ, চীন এবং পর্তুগালে। সেখান থেকে পণ্য সোর্স করে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ ইউরোপের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে দিচ্ছে একটুকরো দেশীয় অনুভব, বিশ্বস্ততার মোড়কে।

তুষার জানান,
“আমি চাই, ‘Dear Priyota’ হোক এমন এক নাম, যেটা মানুষ মনে রাখে—ভালোবাসা, সততা আর নারীর স্বপ্নকে সম্মান জানানোর জন্য।”
তাঁর স্বপ্ন—একদিন ইউরোপের রাস্তায় থাকবে Dear Priyota-এর নিজস্ব ফিজিক্যাল আউটলেট, থাকবে আমাদের ডিজাইন করা পোশাক আর পণ্য, যেগুলোর ভাঁজে থাকবে এক নারীর আত্মবিশ্বাস, ভালোবাসা আর প্রতিদিন নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প।

ভবিষ্যতের পথে তারা এগিয়ে চলেছে নিরবিচারে—বিশ্বাস আর ভালোবাসাকে সঙ্গী করে।
আর এই যাত্রা শুরু হয়েছিল, এক চিঠির মতো করে—
Dear Priyota...