মোঃ মমিনুল ইসলাম, পার্বতীপুর: শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড সেই মেরুদণ্ড বুনিয়াদি স্থানটির বেহাল দশা। দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ১০ নং হরিরামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুকুর হাট সংলগ্ন সবুজ সাথী উচ্চ বিদ্যালয়টি।
জানা গেছে, এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্টান। পার্বতীপুর উপজেলার ১০ নং হরিরামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুকুর হাটের সংলগ্ন এ শিক্ষা প্রতিষ্টানটি অবস্থিত। এটির নাম সবুজ সাথী উচ্চ বিদ্যালয়। বর্তমান স্কুলটির ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৫০৭ জন পূর্বের তুলনায় ২৯৩ জন হ্রাস পেয়েছে শুধু অবকাঠামোর কারণে। বিগত বছরের বাষিক পরীক্ষায় জিপিএ প্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা- ৮ জন, পাশের হার ৮৭%, শিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যা ২৩ জন নিয়ে স্কুলটির শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ১৯৯২ সালে প্রত্যন্ত পল্লী অঞ্চলে গড়ে উঠা স্কুলটির অবয়ব হিসাবে জানা গেছে ৫ টি দাগে ১.৫৫ শতাংশে নিজস্ব জায়গায় মধ্যে স্কুলটির অবস্থান। অথচ দীর্ঘদিনের শিক্ষা প্রতিষ্টান গড়ে উঠলেও বিগত সরকারের ১৭ বছরের প্রীতিভাজন না হওয়ায় অবকাঠামোটি ভেঙে পড়ার কথা জানান এলাকার সুধীজন।
গত ০১ আগষ্ট ২০২২ ইং তারিখে একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য প্রধান শিক্ষক আবেদনে উল্লেখ করেন, পার্বতীপুর উপজেলার অন্তর্গত অত্র বিদ্যালয়টি ১৯৯২ ইং সালে স্থাপিত হয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী ও দক্ষ ম্যানেজিং কমিটি দ্বারা সুচারুরূপে পরিচালিত হয়ে আসছে। বিদ্যালয়টি নিভৃত পল্লীতে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠালগ্নে বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু করা হলেও ১৯৯৪ ইং সালে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার কথা উল্লেখ করে। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্নে নিজস্ব ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যালয়ের ভবনের কক্ষগুলো প্রায় পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে ছাত্র/ছাত্রীদেরকে পাঠদান করা হচ্ছে। বিদ্যালয়টি নিভৃত পল্লীতে অবস্থিত হওয়ায় এলাকার গরীব জনগনের সন্তান-সন্ততি লেখাপড়ার সুযোগ পাবার কথাও জানান। এরপর ২ আগষ্ট ২০২২ ইং তারিখে ৪র্থ তলা বিশিষ্ট একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য একটি ডিও লেটার নামকাওস্তে দেন। তৎকালীন প্রয়াত এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। তিনি তার ডিও লেটারে উল্লেখ করেন, পার্বতীপুর উপজেলাধীন ‘সবুজ সাথী উচ্চ বিদ্যালয়’টি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী এবং দক্ষ ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক পরিচালিত। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০৪ জন এবং পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক।
বিদ্যালয়টির নিম্নমাধ্যমিক এবং মাধ্যমিক উভয় স্তরই এমপিওভূক্ত। কিন্তু শিক্ষার্থীদের তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা কম থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার নিমিত্তে ৪র্থ তলা বিশিষ্ট একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা আবশ্যক। সে কারণে একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা প্রধান প্রকৌশলী শিক্ষা ভবন ১নং আব্দুল গনি রোড ঢাকা -১০০০ কে জানান। স্কুলের এ জরাজীর্ণ দূরাবস্থার কথা বলছে ৬ষ্ট শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণির একাধিক ছাত্র /ছাত্রী অভিযোগ তুলেছে আমরা বিশ্বায়ণে ডিজিটাল যুগে ভাংগাচুরা শ্রেণি কক্ষে পড়াশোনা করতে হচ্ছে । আমরা এমন পরিবেশ চাই না। বর্তমান সরকারের মাননীয় উপদেষ্টা ড.ইউনুস মহোদয়ের নিকট আবেদন উনি যেন আমাদের স্কুলের বিল্ডিং দ্রুত তৈরী করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ঐ স্কুলের একাধিক অভিভাবকগণ বলেন, খুব কষ্ট করে আমাদের ছেলে মেয়েরা স্কুলটিতে পড়ালেখা করছে। সরকারের উচিত এ পুরাতন স্কুলটির বিল্ডিং করে দেয়া বলে অভিযোগ তুলেন। এ বিষয়ে স্কুল কমিটির সভাপতি মোঃ রেজাউল কবির আক্ষেপ করে বলেন, ৩৩ বছরেও বিদ্যালয়টির বিল্ডিং হল না।
ঐ ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বরত চেয়ারম্যান মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, আমার জানা মতে ঐ স্কুলের ছাত্র /ছাত্রীরা ভাংগা শ্রেণি কক্ষে পড়াশোনা করছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ কেউ আমার কাছে আসে নাই। আমার ইউনিয়নে এটি একটি পুরাতন স্কুল। সে হিসাবে আবশ্যই বিল্ডিং হওয়া উচিত। যদি স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার যে কোন সহযোগিতা প্রয়োজন মনে করে, তা আবশ্যই আমি সে দিকে নজর রাখবো বলে জানান।
স্কুলটি সম্পর্কে জানতে, পার্বতীপুর উপজেলার উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা অফিসার মোঃ মেরাজুল ইসলাম বলেন, স্কুলের বিল্ডিংয়ে বিষয়টির সম্পর্কে আমার তেমন কিছু জানা নেই। কারণ আমার এখানে আসা বেশী দিন হয়নি। তবে স্কুলের বিল্ডিংয়ের সিরিয়াল আছে কিনা সেটা আমি দেখবো বলে জানান।