• ঢাকা |

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে আবারও মধ্যবর্তী নির্বাচন”—সরকারকে হুঁশিয়ারি- ফখরুদ্দিন খান রাযী


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৭ মার্চ, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

জাকির হোসেন, পিরোজপুর: আগামী জাতীয় সংসদ থেকে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন শুরু না হলে সরকারকে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এ কে এম ফখরুদ্দিন খান রাযী। তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করেছে।

শনিবার (৭ মার্চ) পিরোজপুর শহরের করিমুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা আমির আলহাজ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী শিক্ষা শিবিরে বাছাইকৃত দায়িত্বশীল কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জেলা আমির তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ এবং পবিত্র কুরআন থেকে দারস পেশ করেন ভান্ডারিয়া উপজেলা আমির মাওলানা আমীর হোসাইন খান।

প্রধান অতিথি ফখরুদ্দিন খান রাযী বলেন,

“আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম—যদি জনগণ আমাদের সমর্থন দেয়, তবে আমরা সরকার গঠন করব। কিন্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে অতীতের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। কৌশল অবলম্বন করে আমাদের পরাজিত করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—আগামী জাতীয় সংসদ থেকে যদি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন শুরু না হয়, তাহলে সরকারকে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।”

তিনি আরও দাবি করেন, দেশে বিগত সময় কার্যকর বিরোধী শক্তির অভাব ছিল এবং যারা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় দেশের জনগণ ধীরে ধীরে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।

বক্তব্যে তিনি দুর্নীতিকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সমস্যা উল্লেখ করে বলেন,

“মানুষের মধ্যে লোভ-লালসা থাকলেই দুর্নীতি জন্ম নেয়। মাহে রমজানের সাওম মানুষের সেই লোভ-লালসা দূর করার শিক্ষা দেয়।”

তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আজকের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের দক্ষতা অর্জন করতে হবে, নৈতিকতার মান উন্নত করতে হবে। দক্ষ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষকে মানুষের গোলামির শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে আল্লাহর গোলাম বানানোর লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সত্যের পথে মানুষকে পরিচালিত করাই এই সংগঠনের লক্ষ্য।”

শিক্ষা শিবিরে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ছিদ্দিকুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মিডিয়া সম্পাদক সোহরাব হোসেন জুয়েল, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, পৌর আমির ইসহাক আলী খান, সদর উপজেলা আমির মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা।