• ঢাকা |

ঢাকায় এবি পার্টির পহেলা বৈশাখের আলোচনা সভা: “প্রতিশ্রুতির পর জনগণকে বারবার প্রতারিত করা হচ্ছে” — মঞ্জু


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনা করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বদলে জনগণকে বারবার প্রতারিত করা হচ্ছে।
রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মঞ্জু বলেন, “ভোটের পরপরই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করা হচ্ছে। বিচার বিভাগ, ব্যাংকিং খাতসহ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা থেকে সরে এসেছে ক্ষমতাসীনরা।”
সভাটি সঞ্চালনা করেন এবি স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর এবং স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।
ইতিহাসের উদাহরণ টেনে সতর্কবার্তা
মঞ্জু বলেন, দেশের জনগণ বারবার শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেও পরবর্তীতে প্রতারিত হয়। তবে ইতিহাস প্রমাণ করে, জনগণ যখন কঠোর হয়, তখনই পরিবর্তন আসে। তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান।
নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাচন ও গণতন্ত্রের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে মঞ্জু বলেন, “গণভোট জনগণের মতামত প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হলেও গুরুত্বপূর্ণ গণরায়কেও উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা নজিরবিহীন।” তিনি দাবি করেন, ক্ষমতাসীনরা ভোটকে জনগণের অধিকার হিসেবে না দেখে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।
অর্থনৈতিক চাপ ও ভাঙা প্রত্যাশা
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক চাপে জর্জরিত। ২০২৪ সালের আন্দোলনের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের আশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং আন্দোলনের সহযাত্রীরাই তাদের প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবি পার্টির চেয়ারম্যান। নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেন এবং নতুন বছরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উপস্থিতি
আলোচনা সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নতুন বছরের শুরুতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।