ক্রীড়া প্রতিবেদক: বিশ্বকাপে অভিষেকেই চমক দেখানো কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় পড়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির দল। অন্যদিকে, দুর্দান্ত লড়াই করেও বিদায় নিতে হয় বিশ্বকাপের নবাগত কেপ ভার্দেকে।
ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষকে নিয়ে রসিকতা করতে ভোলেননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। হাস্যরসের সুরে তিনি বলেন, “ওরা আমার জার্সি চাইল, সবই চাইল... অথচ মাঠে ওরাই আমাকে জোরেশোরে লাথি মারল!”—ফাউলের প্রসঙ্গ টেনে দেওয়া এই মন্তব্য মুহূর্তেই আলোচনায় আসে।
আর্জেন্টিনার জয়ে আবারও বড় ভূমিকা রাখেন মেসি। প্রথমার্ধে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২০-এ উন্নীত করেন তিনি। এছাড়া লিসান্দ্রো মার্তিনেজের গোল এবং ডিজনির আত্মঘাতী গোল—দুটিরই সূচনা হয় মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে।
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মেসি বলেন, এই দল দীর্ঘদিন ধরেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতার পরিচয় দিয়ে আসছে। তার মতে, এদিন সেট পিস থেকে সুযোগ কাজে লাগাতে পারাটাই ছিল বড় পার্থক্য। সাম্প্রতিক সময়ে এ বিভাগে খুব একটা সফল না হলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেট পিসের কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পেরেছে আর্জেন্টিনা। তিনি আরও বলেন, দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আকাশে বলের লড়াইয়ে শক্তিশালী এবং ভালো হেড করতে সক্ষম, যা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাড়তি সুবিধা এনে দেয়।
তবে জয় পেলেও আত্মসমালোচনা করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি স্বীকার করেন, কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে, তা আগে থেকেই জানা ছিল। কারণ, এই দলটি এর আগে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে হারতে দেয়নি। মেসির ভাষায়, প্রথম গোল করার পর আর্জেন্টিনা ভেবেছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে চলে এসেছে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। দল বলের দখল হারিয়েছে, অনেক নিচে নেমে খেলেছে এবং কার্যকর প্রেসিং বজায় রাখতে পারেনি।
তবুও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা, দৃঢ়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগানোর সক্ষমতাই আর্জেন্টিনাকে জয় এনে দেয়। আর অসাধারণ লড়াই করেও বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় নবাগত কেপ ভার্দের।