ফারুক আহমেদ, মাগুরা: মাগুরা সদর উপজেলার পৌর এলাকার ভায়না টিটিডিসি পাড়ায় একটি গ্যারেজের সামনে থেকে চুরি হওয়া একটি মাইক্রোবাস ঘটনার এক বছর পার হলেও এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ মার্চ সন্ধ্যা থেকে ১২ মার্চ সকাল ৯টার মধ্যে কোনো এক সময় মৎস্য অফিসের বিপরীতে অবস্থিত একটি গ্যারেজের সামনে ফাঁকা জায়গা থেকে সাদা রঙের একটি টয়োটা হায়েস (২০০৫ মডেল) মাইক্রোবাস চুরি হয়। গাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।
গাড়িটির মালিক মো. সোহান হোসেন (২৭), পিতা মো. মিরাজুল বিশ্বাস, গ্রাম ইছাখাদা মির্জাপুর, মাগুরা সদর। তিনি ১৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে মাগুরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-১৭, ধারা ৩৭৯ পেনাল কোড)।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন সকালে গাড়িটি রং ও চেসিসের কাজের জন্য স্থানীয় গ্যারেজ মালিক শিমুল মিয়া পাঁচুর গ্যারেজে নেওয়া হয়। সারা দিন ড্রাইভার মো. ইকলাছুর রহমান অভি সেখানে অবস্থান করেন। সন্ধ্যায় গাড়ির চাবি গ্যারেজ মালিকের কাছে রেখে ড্রাইভার বাড়ি চলে যান। পরদিন সকালে গ্যারেজ মালিক ফোন করে গাড়ি চুরি হওয়ার খবর দেন।
পরে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গভীর রাতে একটি প্রাইভেটকার গ্যারেজের সামনে এসে থামে এবং সেখান থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নেমে মাইক্রোবাসটি নিয়ে যায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্যারেজ মালিক শিমুল মিয়া পাঁচু, যশোরের কোতয়ালী থানার খাজুরা এলাকার ইসমাইলসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
গাড়ির মালিক সোহান হোসেন অভিযোগ করেন, “এক বছর হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। আমরা নিজেরাও অনেক খোঁজ করেছি, কিন্তু কোনো হদিস পাইনি।”
এ বিষয়ে সোহানের মা শেলি খাতুন বলেন, “রমজান মাসে গত বছর আমার ছেলের গাড়িটি চুরি হয়। এখনো পর্যন্ত কোনো খবর পাইনি। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
অন্যদিকে গ্যারেজ মালিক শিমুল মিয়া পাঁচু তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, “ঈদের সময় আমার গ্যারেজে ৮-৯টি গাড়ি ছিল। রাতে কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছিল না। সকালে এসে দেখি গাড়ি নেই। আমি নিজেই মালিকদের থানায় যেতে বলেছি। আমাকে অন্যায়ভাবে সন্দেহ করা হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার পর তাকে আটক করা হয় এবং তিনি প্রায় এক মাস দশ দিন কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পান।
মাগুরা সদর থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত চুরি হওয়া মাইক্রোবাস উদ্ধার বা মূল আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো অগ্রগতি জানানো হয়নি।
এদিকে দীর্ঘদিনেও গাড়ি উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া গাড়ি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।