ক্রীড়া প্রতিবেদক: রেকর্ড দিয়ে শুরু, রেকর্ড দিয়েই শেষ। চার দিনের জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার ও ডাইভিং প্রতিযোগিতা হয়ে উঠেছিল পুরোনো রেকর্ড ভাঙার মঞ্চ।
মঙ্গলবার শেষ দিনেই হয়েছে আটটি নতুন জাতীয় রেকর্ড। সব মিলিয়ে এবারের আসরে নতুন জাতীয় রেকর্ড হয়েছে ২৩টি। পদক তালিকায় একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়েছে বিকেএসপি। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আলো ছড়িয়েছেন আব্দুল আজিম ও ফাতিহা মাহতাব মাইশা।
মিরপুরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার শেষ দিনের ২০টি সাঁতার ইভেন্টের আটটিতেই নতুন জাতীয় রেকর্ড হয়েছে। এর আগে প্রথম তিন দিনে সাঁতার ও ডাইভিং মিলিয়ে হয়েছিল ১৫টি রেকর্ড।
শেষ দিনেও রেকর্ড গড়ার নেশায় ছিলেন বিকেএসপির আব্দুল আজিম। ১৫-১৭ বছর বালকদের ২০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে ২ মিনিট ২৪.৩৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে ২০১১ সালের পুরোনো রেকর্ড ভাঙেন তিনি। এরপর ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ২ মিনিট ৩৬.৩৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে আরেকটি জাতীয় রেকর্ড গড়েন। চার দিনের প্রতিযোগিতায় ১১টি স্বর্ণ ও দুটি রুপা জেতার পাশাপাশি সাতটি জাতীয় রেকর্ড গড়ে সেরা বালক সাঁতারু নির্বাচিত হন আজিম।
১৩-১৪ বছর বালিকা বিভাগে আলো ছড়িয়েছেন মেঘনা মোহনা সুইমিং ক্লাবের ফাতিহা মাহতাব মাইশা। শেষ দিনে ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে ১ মিনিট ১৬.৬৫ সেকেন্ড এবং ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ১ মিনিট ৫.৯৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের পুরোনো রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। পুরো প্রতিযোগিতায় ১০টি স্বর্ণ ও একটি রুপার সঙ্গে চারটি জাতীয় রেকর্ড গড়ে সেরা বালিকা সাঁতারুর স্বীকৃতি পেয়েছেন মাইশা।
শেষ দিনে আরও রেকর্ড গড়েছেন বিকেএসপির তৌফিক ও সিরাজ উদ্দিন মুফরাদ এবং নিকলী সুইমিং ক্লাবের শামীমুল হক। ১৩-১৪ বছর বালকদের ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে তৌফিক ১ মিনিট ৭.৯৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন রেকর্ড করেন। একই বয়স বিভাগের ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে ২ মিনিট ২৭.৬৩ সেকেন্ড এবং ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ৫৮.৬২ সেকেন্ড সময় নিয়ে দুটি নতুন রেকর্ড গড়েন শামীমুল। ১০ বছর বালকদের ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে সিরাজ উদ্দিন মুফরাদ ১ মিনিট ১১.৯৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন জাতীয় রেকর্ড করেন।
পদকের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেক পেছনে ফেলেছে বিকেএসপি। তাদের সংগ্রহ ৬৬টি স্বর্ণ, ৫৮টি রুপা ও ৫৫টি ব্রোঞ্জ। ১৪টি স্বর্ণ, ১০টি রুপা ও ১০টি ব্রোঞ্জ নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছে নিকলী সুইমিং ক্লাব। ১১টি স্বর্ণ, পাঁচটি রুপা ও ১২টি ব্রোঞ্জ নিয়ে তৃতীয় স্থানে মেঘনা মোহনা সুইমিং ক্লাব।
১৮-২০ বছর যুবতী বিভাগে বিকেএসপির পলি খাতুনও ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ১০টি স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জ জিতেছেন তিনি। একই বয়সের যুব বিভাগে বিকেএসপির মনির খান তন্ময়ের অর্জন ছয়টি স্বর্ণ, দুটি রুপা ও একটি ব্রোঞ্জ।
ডাইভিংয়ে বালক বিভাগে বিকেএসপির সায়েদুল ইসলাম স্বর্ণ জিতে সেরা ডাইভার হয়েছেন। বালিকা বিভাগে তিনটি স্বর্ণ জেতার পাশাপাশি একটি জাতীয় রেকর্ড গড়ে সেরা ডাইভার নির্বাচিত হয়েছেন অর্পা দাস।
চার দিনের প্রতিযোগিতা শেষে মঙ্গলবার বিকালে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সভাপতি ও নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়া সাঁতারুদের প্রতিটি রেকর্ডের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়।