• ঢাকা |

তিন মাসের শিশুকে ‘চুরি’ নয়, মায়ের সঙ্গেই পাওয়া গেল; সিসিটিভি বিশ্লেষণে রহস্য উদ্ঘাটন


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ফারুক আহমেদ, মাগুরা: মাগুরায় তিন মাস বয়সী এক শিশুকে ‘চুরি’ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং একাধিক জেলার পুলিশের সমন্বিত অভিযানে শিশুটিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা থেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া বোরকাপরা নারী অন্য কেউ নন, তিনি শিশুটিরই মা।

পুলিশ জানায়, রোববার (২ আগস্ট) সকালে মাগুরা সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের কুল্লিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর সদর থানায় এসে অভিযোগ করেন, তিনি মাঠে কাজ করতে গেলে এবং তার স্ত্রী পুকুরঘাটে কাপড় ধুতে গেলে অজ্ঞাতপরিচয় এক বোরকাপরা নারী তাদের তিন মাস বয়সী ছেলে নূর ইসলামকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনকে অবহিত করেন। এরপর পুলিশ সুপার জেলার সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি)-কে শিশুটিকে উদ্ধারের দায়িত্ব দেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে সিসিআইসি এবং সদর থানার সদস্যরা বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তারা নিশ্চিত হন, এক বোরকাপরা নারী শিশুটিকে নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা হয়েছেন।

তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ওই নারীর অবস্থান রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় শনাক্ত হওয়ার পর মাগুরা জেলা পুলিশ মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ, রাজবাড়ী জেলা পুলিশ এবং ফরিদপুর নৌ পুলিশ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করে।

যৌথ অভিযানে ওই দিন রাতেই মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া বোরকাপরা নারীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী নিজেকে শিশুটির মা কহিনূর বেগম বলে পরিচয় দেন। তিনি পুলিশকে জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্বামীর আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজের সন্তানকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশু বর্তমানে তার মায়ের জিম্মায় রয়েছে। তবে শিশুকে ‘চুরি’ হওয়ার অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাগুরা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, নারী ও শিশু-সংক্রান্ত প্রতিটি অভিযোগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে তদন্ত করা হয়। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং আন্তঃজেলা সমন্বয়ের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে।