বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাব্য উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী’ ও ‘নীতিবিবর্জিত’ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শিবির নেতারা বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যখন নানা সংকটে রয়েছে, তখন শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়ার মূল ক্ষমতা আবার স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হাতে তুলে দেওয়া হলে নিয়োগে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তাঁদের ভাষ্য, একটি মেধাভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মানসম্মত ও নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা। আর এই শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান কারিগর হলেন যোগ্য শিক্ষক।
বিবৃতিতে শিবিরের নেতারা দাবি করেন, অতীতে স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক আধিপত্য এবং জাল সনদের ব্যবহারের মতো নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা চালু করা হয় বলে তারা উল্লেখ করেন।
তাঁদের মতে, এনটিআরসিএর বর্তমান নিয়োগ ব্যবস্থায় কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা থাকলেও সেগুলো সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। দূরবর্তী কর্মস্থলে পদায়ন এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ধীরগতির মতো সমস্যার কথা উল্লেখ করে তারা নিয়োগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সুস্পষ্ট বদলি নীতিমালা প্রণয়ন এবং মেধাক্রম অনুসারে দ্রুত নিয়োগের দাবি জানান।
শিবির নেতারা বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর না করে নিয়োগের মূল ক্ষমতা পুনরায় স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হলে অতীতের অনিয়ম আবারও ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মেধার ভিত্তি নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষার মানের ওপর এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষার্থীরাই।
সংগঠনটি নীতিনির্ধারকদের প্রতি বিদ্যমান এনটিআরসিএ ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগে মেধা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে তারা।
তবে স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবিত নীতিমালার বিস্তারিত বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে।