দিনাজপুর সংবাদদাতা: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দিনাজপুরে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) জেলা শাখার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিরামপুর উপজেলার একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং রাজনৈতিক কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
জেলা আহ্বায়ক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব শাহিনুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি পূর্বে ঘোষণা দিয়েছিল ক্ষমতায় গেলে তারা একটি জাতীয় সরকার গঠন করবে এবং সকল রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। জনআকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ তাদের মূলনীতি হবে বলেও তারা ঘোষণা দিয়েছিল। তবে বাস্তবে ক্ষমতার রাজনীতিতে এসে তারা সেই অঙ্গীকার থেকে সরে যাচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় সরকার গঠনের পরিবর্তে শুরুতেই একদলীয় নীতির বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা দেশের জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সকল রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতি হলো জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি। তাই শুরু থেকেই সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেকেই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন না।
তিনি বলেন, এবি পার্টি সবসময় সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করবে এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত হলে তার যৌক্তিক সমালোচনা করবে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র মেরামতের এই সময়ে যুবসমাজের কোনো বিকল্প নেই। দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে যুবকদেরই নিজ তাগিদে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী দিনাজপুর জেলা সেক্রেটারি মুহাদ্দিস এনামুল হক, এবি পার্টি রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাসেত মারজান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দিনাজপুর জেলা সভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ এবি পার্টি, এবি যুব পার্টি ও ছাত্রপক্ষের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রংপুর, নীলফামারী ও জয়পুরহাট জেলার নেতৃবৃন্দও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।