• ঢাকা |

গাজীপুরে ছাত্রশিবিরের শিক্ষা সফরে অতর্কিত হামলা, আহত ২৫


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

কালীগঞ্জ সংবাদদাতা: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের হরদি বাজারে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর এক অমানবিক ও বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। নামাজ আদায় করতে মসজিদে প্রবেশ করা ছাত্রদের ওপর ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে করা এই হামলায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।
​স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির গাজীপুর মহানগরীর মেট্রো সদর থানার উদ্যোগে ৭০-৭৫ জন শিক্ষার্থীর একটি দল ৩০০ ফিট এলাকায় শিক্ষাসফরে (নৌভ্রমণ) যায়। দুপুর ১টার দিকে তারা কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের বড়কাউ হরদী বাজারের একটি মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করতে যান। সেখানে অজুর পানি ব্যবহার ও ফ্যান চালানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী অযাচিতভাবে তাদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র, দা-বটি ও লাঠিসোটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
​এ হামলায় প্রায় ১০-১২ জনের মাথা ফেটে যায় এবং হাত-পা ভেঙে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া হামলায় আহত প্রায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর শরীরে বেদম প্রহারের দাগ ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ ডিভাইন মার্সি হাসপাতাল, গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।
​ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয় এক নেতা জানান, শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেখানে যাননি। তারা কেবল আনন্দ ভ্রমণের অংশ হিসেবে সেখানে গিয়ে সফররত অবস্থায় মেহমান হিসেবে মসজিদে নামাজ পড়তে ঢুকেছিলেন। নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের জঘন্য ও অমানবিক আক্রমণ পুরো এলাকাবাসীকে কলঙ্কিত করেছে। সচেতন ও বিবেকবান নাগরিকরা এ ঘটনায় গভীর লজ্জাপ্রকাশ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
​এদিকে উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, "শিক্ষার্থীদের ওপর এই জঘন্যতম হামলার পেছনে কোনো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার কুচক্রী মহল জড়িত আছে কি না, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে হবে। একই সাথে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত আইনানুগ বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।"