• ঢাকা |

নভেম্বরে মাসব্যাপী দাওয়াত ও গণসংযোগ কর্মসূচি খেলাফত মজলিসের


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

সাজেকে মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী নভেম্বর মাসজুড়ে দাওয়াত ও গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে খেলাফত মজলিস। সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং ইসলামী আদর্শের আলোকে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক জনকল্যাণমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নভেম্বর মাসের কর্মসূচি বাস্তবায়নের সর্বশেষ প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। এর আগে সার্কুলারের মাধ্যমে দলের শাখাগুলোতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

বৈঠকে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি অঞ্চলের পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে অবরোধের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা। তাঁরা অভিযোগ করেন, পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবরোধের ফলে সেখানে মানবিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তাঁরা।

নভেম্বরের কর্মসূচির উদ্দেশ্য তুলে ধরে খেলাফত মজলিস জানায়, আল্লাহর জমিনে দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের হক্কানি আলেম-উলামা ও দ্বীনদার বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে ১৯৮৯ সালের ৮ ডিসেম্বর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নানা বাধা ও প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে তারা ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্য দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে ইতিবাচক অবস্থান তৈরির চেষ্টা করেছে দলটি।

খেলাফত মজলিস জানায়, বাংলাদেশে ইসলামী আদর্শের আলোকে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক, জনকল্যাণমূলক ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা সাত দফা মৌল কর্মসূচি এবং ২৫ দফা আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে।

নভেম্বর মাসের দাওয়াত ও গণসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে এসব লক্ষ্য ও আদর্শ সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেলাফত প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও কামনা করেছে দলটি।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন। পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল ও অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান ও অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম, প্রচার ও তথ্য সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শায়খুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, খেলাফত আলা মিনহাজিন নবুওয়্যাহ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করে খেলাফত মজলিস।