শাহজাহান মিয়া, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গত কয়েক বছরের তুলনায় পাটের বাজার ভালো হলেও কৃষকের মনে স্বস্তি নেই। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে জমে উঠেছে পাটের বেচাকেনা। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার মীরগঞ্জ, শোভাগঞ্জ, বেলকা, পাঁচপীর ও নগর কাঠগড়া হাটে প্রচুর পাটের আমদানি হলেও গত বছরের তুলনায় এবার পাটের সরবরাহ অনেক কম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৪ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে পাট চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৩৪২ হেক্টর জমিতে।
নবীর হোসেনসহ কয়েকজন পাটচাষি জানান, গত বছর এক একর জমিতে প্রায় ২৫ মণ পাট উৎপাদন হলেও এবার একই পরিমাণ জমিতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১০ মণ। পাটের বীজ বপনের শুরুতেই টানা বৃষ্টিতে অনেক জমি নষ্ট হয়ে যায়। পরে গাছ গজানোর পরও অনেক চারা মরে যায়। ফলে জমি পাতলা হয়ে যাওয়ায় প্রচুর আগাছা জন্মে। এসব আগাছা পরিষ্কার ও জমির পরিচর্যায় বাড়তি খরচ করতে হয়েছে কৃষকদের।
চাষিরা জানান, সাধারণত পাটগাছ ৭ থেকে ৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। কিন্তু এবার অতিবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক জমিতে পাটগাছ ৩ থেকে ৫ ফুটের বেশি লম্বা হয়নি। এতে ফলন অর্ধেকেরও কম হয়েছে।
ফলে পাটের বাজার কিছুটা ভালো থাকলেও ফলন কম হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি নেই। উৎপাদন খরচের তুলনায় কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় অনেক চাষিই লোকসানের মুখে পড়েছেন।
এভাবে পাট চাষে লোকসান অব্যাহত থাকলে আগামীতে কৃষকেরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।