এমএম রহমাতুল্লাহ
বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে নীতি সংস্কারের পাশাপাশি তার কার্যকর, ধারাবাহিক ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দেশের ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকরা। তাঁদের মতে, নীতির ধারাবাহিকতা, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও পূর্বানুমেয়তা নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং দেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
রোববার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ফ্ল্যাগশিপ মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বিল্ডিং ইনভেস্টরস’ কনফিডেন্স: ফ্রম পলিসি রিফর্ম টু ইফেক্টিভ ইমপ্লিমেন্টেশন’ শীর্ষক এ আয়োজনে সরকারের কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও অ্যামচেমের সদস্যরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত্তিকে টেকসই বিনিয়োগকারীর আস্থা ও নতুন বিনিয়োগে রূপ দিতে হলে নীতি সংস্কারের কার্যকর ও ধারাবাহিক বাস্তবায়ন জরুরি। শুধু নীতি প্রণয়ন নয়, মাঠপর্যায়ে তার সঠিক বাস্তবায়নই বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরির অন্যতম প্রধান শর্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও পূর্বানুমেয়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণে আরও অগ্রগতি হলে তা দেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে আরও উন্মুক্ত করতে পারে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণের বোঝা কমানো, করব্যবস্থায় সংস্কার এবং বাণিজ্যপ্রক্রিয়া আরও সহজ করার মাধ্যমে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী নীতির পূর্বানুমেয়তা ও ধারাবাহিকতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতির স্থায়িত্ব ও সরকারের ধারাবাহিক অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। তাই সংস্কারের পাশাপাশি তার বাস্তবায়নেও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা, বিনিয়োগ পরিবেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে নতুন ও উদীয়মান ব্যবসাগুলোর জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নীতি সংস্কারকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে নীতির ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়নের গতি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে।
অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অ্যামচেমের সহসভাপতি ও মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদ।
অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহযোগিতা করে শেভরন বাংলাদেশ, এইচএসবিসি, ট্রান্সকম গ্রুপ ও ভিসা।