আব্দুল আলিম. বগুড়া: আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষনা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনুস এর ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৬ সালের রমজান মাস শুরু হওয়ার আগে নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। সে হিসেবে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের নানা ঘটনা প্রবাহ ঘোষিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় তৈরী করেছে। এসবের মধ্যেও সারা দেশের ন্যায় বগুড়া জেলার বিভিন্ন আসনে চলছে ভোটের জোর প্রস্তুতি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে তদবির, লবিং, গ্রুপিং ও শক্তি পরীক্ষার মহড়া। এক্ষেত্রে বগুড়া-১ আসনের চিত্র একটু ব্যতিক্রম। জেলার অন্য ৬. আসনের তুলনায় এখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা ঢের বেশী। ফ্যাসিবাদের পতনের পর ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ একেবারে অনুপস্থিত। ফাঁকা মা মাঠে তাই সবাই গোল দিতে প্রস্তুত। মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে পারলেই কেল্লা ফতে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, ছাপিয়ে প্রচারণায় সরব। ভোটারদের কাছে নিজেদেরকে ক্লিন ইমেজের অধিকারী হিসাবে উপস্থাপনের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছেন তারা। তবে তৃনমূল নেতাকর্মীরা বেশ সচেতন। তারা মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অতীত কর্মকান্ড সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। তাদের মতে, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অনেকেই বিগত সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন সম্পূর্ণ অনুপস্থিত, কেউ আবার দলবাজি, গ্রুপিং এ সিদ্ধহস্ত, কেউ কেউ মৌসুমী নেতা। ভোট আসলেই মাঠে তাদের আগমন ঘটে অতিথি পাখির মতো। বিএনপির তৃনমূল পর্যায়ের ত্যাগি, নিপীড়িত ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের ভাবমূর্তি উজ্জল করা এবং জনাব তারেক রহমানের ৩১ দফার সফল বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষিত, সৎ, নির্লোভ, দলের প্রতি অনুগত, কর্মী বান্ধব, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম আলোচনা আছে তারা হলেন- মণিপঞ্চায়েত কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সমাজসেবক বিএনপির নেতা আলহাজ¦ মহিদুল ইসলাম রিপন, বগুড়া জেলা ড্যাবের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. শাহ্ মোঃ শাহজাহান আলী, কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ এ এস এম রফিকুল ইসলাম, বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা এ্যাডভোকেট মোঃ রবিউল হোসেন রবি, সারিয়াকান্দী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা মোঃ মাছুদার রহমান হিরু মণ্ডল, বগুড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন চৌধুরী, কর্নেল (অব:) জগলুল আহসান এবং প্রফেসর ড. মোঃ ছামছুল আলম। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন এবং বিএনপি জোটের শরীক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি ’৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমানের নাম আলোচনায় আছে। এ আসনের অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্ব মহিদুল ইসলাম রিপন বলেন, তিনি ৪৪ বছর আগে জনাব অরেক রহমানের হাত ধরে বিএনপির সদস্য ফরম পূরণ করে দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে অদ্যাবধি দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দল তাকে মনোনয়ন দিলে, তিনি শহীদ জিয়ার সততার ভাবমূর্তিকে ধারন করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জনাব তারেক রহমানের নির্দেশে জনগণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করবেন।
অধ্যাপক ডাঃ শাহ মোঃ শাহজাহান আলী বলেন, আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানবসেবা করা। দল যদি আমার প্রতি আস্থা রেখে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি শহীদ জিয়ার আদর্শের আলোকে রাজনীতিকে সমাজসেবায় রূপান্তরের মাধ্যমে আধুনিক তারুণ্য নির্ভর সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকে প্রাধান্য দিবো।
অধ্যক্ষ এ এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, দল তাকে মনোনায়ন দিলে তিনি তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে সদা সচেষ্ট থাকবেন এবং হাজারো সমস্যায় জর্জরিত সারিয়াকান্দি-সোনাতলার জনগনের জীবনমানের উন্নয়ন এবং দুর্গম চরাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সর্বাত্মকভাবে কাজ করবেন।