নিজস্ব প্রতিবেদক: দৈনিক গণজাগরণ পত্রিকার দাউদকান্দি প্রতিনিধি এবং চিকিৎসক মো.ফরহাদ প্রধানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার আসরের নামাজের পর শহীদনগর-জুরানপুর সড়কের দাউদকান্দি উপজেলার সুন্দলপুর বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত সাংবাদিক মো. ফরহাদ প্রধানকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎস নয়ন দে বলেন, সাংবাদিক মো.ফরহাদ প্রধানের নাকসহ পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
হামলায় ঘটনায় মো. ফরহাদ প্রধান বাদী হয়ে সাত জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত করে শনিবার দিবাগত রাতে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সাংবাদিক মো. ফরহাদ প্রধান জানান, শনিবার বিকালে সুন্দলপুর বাজার মসজিদে আসরের নামাজ আদায় শেষে তিনি বসতবাড়ি সুন্দলপুর গ্রামের পূর্বপাড়ায় উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি সুন্দলপুর সিএনজি স্ট্যান্ডে পৌঁছার পর, কিছু বুঝে উঠার আগেই, আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা, সুন্দলপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শরীফুল ইসলাম ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগী নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং আটকে রাখেন। খবর পেয়ে সুন্দলপুর বাজারের দোকানদার, ফরহাদ প্রধানের বড় আপন তিন ভাই শফিকুল ইসলাম প্রধান, তৌহিদুল ইসলাম প্রধান, ফরিদ উদ্দিন প্রধান এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালায়।এক পর্যায়ে ঐ স্থানে লোকজন জড়ো হলে ইউপি সদস্য শরীফুল ইসলাম তার সঙ্গীদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
সুন্দলপুর গ্রামের বাসিন্দা আলফাতুন ভূঁইয়া,শাহজালাল ভূঁইয়া এবং সাদেক ভূঁইয়া বলেন, ইউপি সদস্য শরীফুল ইসলাম কুমিল্লা উত্তর জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন, আওয়ামী লীগের আমলে গত ১৭ বছর তিনি একচেটিয়া প্রভাব খাটিয়েছেন, কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি, তিনি একাধিক হত্যা মামলার আসামি, কিছুদিন আগে জেল থেকে জানিনে মুক্তি পান। নিজের অস্তিত্ব এবং প্রভাব খাটানো টিকিয়ে রাখতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে স্থানীয় এমপি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাড়ি সুন্দলপুর ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামে লোকজন নিয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন।
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি এম আবদুল হালিম বলেন,সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগটি তিনি অতি গুরত্বের সঙ্গে তদন্ত করবেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।