• ঢাকা |

স্পেনে সান্ত জর্দি উৎসবে বাংলাদেশি লেখকের বইয়ে দর্শনার্থীদের আগ্রহ


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ফিচার প্রতিবেদন: বাংলাদেশি লেখক আনোয়ার হোসেনের লেখা দুটি বই—“দুঃখের ফেরিওয়ালা” ও “ঐতিহাসিক স্পেন”—এবার স্পেন-এর সান্ত জর্দি দিবসের বইমেলায় স্থান পেয়ে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির স্টলে বই দুটি প্রদর্শিত হওয়ায় প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।

ইউরোপের দেশ স্পেনে প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল উদযাপিত হয় ঐতিহ্যবাহী সান্ত জর্দি দিবস। এই দিনটি ভালোবাসা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়। শহরের রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলগুলো ভরে ওঠে বই ও লাল গোলাপে। একদিকে বইয়ের স্টল, অন্যদিকে ফুলের সুবাস—সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক ব্যতিক্রমী পরিবেশ, যেখানে মানুষ উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে।

সান্ত জর্দি দিবসের ঐতিহ্য প্রোথিত রয়েছে একটি প্রাচীন কিংবদন্তিতে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, বীর যোদ্ধা সেন্ট জর্জ এক ভয়ংকর ড্রাগনকে পরাজিত করে এক রাজকন্যাকে রক্ষা করেন। সেই ড্রাগনের রক্ত থেকে একটি লাল গোলাপের জন্ম হয়, যা তিনি রাজকন্যাকে উপহার দেন। সেখান থেকেই ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে গোলাপ উপহারের প্রচলন শুরু হয়।

পরবর্তীতে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয় বিশ্ব সাহিত্য উদযাপন। ইউনেস্কো ২৩ এপ্রিলকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে ঘোষণা করলে এই উৎসব নতুন মাত্রা পায়। ফলে এখন বই ও গোলাপ—উভয়ই এই দিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এবারের আয়োজনে আনোয়ার হোসেনের বই দুটি দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মেলায় সান্তা কোলোমা দে গ্রামেনেত সিটির মেয়র মিরেয়া গনজালেজ সায়েজ লেখকের কাছ থেকে বই দুটি গ্রহণ করেন এবং তাঁর সাহিত্যচর্চার প্রশংসা করেন।

এ সময় স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের দল পিএসওই-এর সংসদ সদস্য লিডিয়া গুইরা এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির মহাপরিচালক লাইয়া ভেন্তুরাসহ অনেকেই বই দুটি হাতে নিয়ে লেখককে অভিনন্দন জানান।

এছাড়াও লেখক কাতালুনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুরিয়া পারলোন গিল-এর হাতে বই তুলে দেন। তাদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা ভবিষ্যতে লেখালেখি চালিয়ে যেতে তাঁকে আরও উদ্বুদ্ধ করবে বলে জানা যায়।

সব মিলিয়ে, সান্ত জর্দি দিবসের এবারের আয়োজনে বাংলাদেশি লেখকের এই সাফল্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভালোবাসা, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের সম্মিলনে গড়ে ওঠা এই উৎসব তাই কেবল একটি আয়োজন নয়, বরং বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।