এমএম রহমাতুল্লাহ: সোমবার, ১১ মে ঢাকার একটি হোটেলে পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডরের আওতায় আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল বৃত্তির দ্বিতীয় পর্যায় চালু হয়েছে।
পাকিস্তান হাইকমিশন, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই এক্সপোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ ও উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা তুলে ধরতে পাকিস্তানের ২০টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মুহাম্মদ ইসহাক দারের ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ সফরের পর পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডরের সূচনা হয়। সে সময় তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০ বৃত্তি ঘোষণা করেন।
কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা, যুব উন্নয়ন এবং দুই দেশের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা বাড়াতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মহামান্য মুহাম্মদ শাহবাজ শরীফ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মহামান্য তারেক রহমানের যৌথ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন এই উদ্যোগ।
বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন এক্সপোর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের উপাচার্য ও অধ্যক্ষ, পাকিস্তানি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বলেন, পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডর দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দ্বিপাক্ষিক একাডেমিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে। তিনি বলেন, পূর্ণ অর্থায়নে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পাকিস্তানে মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা গ্রহণের যে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এই উদ্যোগকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে “মাইলফলক পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ের আওতায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা শুরু করেছে।
হাইকমিশনার আস্থা প্রকাশ করেন যে বর্ধিত শিক্ষা বিনিময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও দৃঢ় করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই কর্মসূচি একাডেমিক গতিশীলতা, যৌথ গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব এবং জনগণের মধ্যে গভীর সম্পৃক্ততার নতুন পথ তৈরি করবে।
ঢাকার পর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে ১২ মে বরিশাল, ১৪ মে রাজশাহী, ১৭ মে সিলেট, ১৮ মে চট্টগ্রাম এবং ২০ মে রংপুরে একই ধরনের এডুকেশন এক্সপো আয়োজন করা হবে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা গভীর করার ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রশংসা করা হয়।