রুহুল আমিন বগুড়া জেলা সংবাদ দাতা: পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসায় বগুড়া জেলায় কোরবানির পশুর হাট ও খামারগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে। জেলার ছোট-বড় খামার এবং কৃষকের গোয়ালে এবার কোরবানির জন্য ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার প্রস্তুতকৃত পশুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এরই মধ্যে হাটের পাশাপাশি খামার থেকেও সরাসরি পশু বিক্রি শুরু হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, এবার ৫ হাজার ২০০টি খামারে কোরবানির পশু লালন-পালন করা হয়েছে। প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৪টি গরু, ২ হাজার ১৫৫টি মহিষ, ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫৬৯টি ছাগল এবং ৫৪ হাজার ২৯টি ভেড়া রয়েছে। গত বছর পশু প্রস্তুত ছিল ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪২টি। খামারিরা জানান, গত বছর প্রত্যাশিত লাভ না হওয়ায় এবার পশুর সংখ্যা ৬ হাজার ৩০৫টি কমেছে।
খামারিরা অভিযোগ করেছেন, ভুসি, ধানের কুঁড়া, খৈল ও খড়সহ সব ধরনের গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ফলে প্রতিটি গরু লালন-পালনে খরচ গত বছরের তুলনায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বগুড়া সদরের নেংড়া বাজার এলাকার ‘এ্যাগ্রো ভেঞ্চার’ খামারের ম্যানেজার এহসানুল হক জানান, তাদের খামারে ২ থেকে ৪ লাখ টাকা মূল্যের দেশি জাতের বড় ষাঁড় রয়েছে। খাদ্যের দাম বাড়ায় এবার পশুর দাম গত বছরের চেয়ে কিছুটা বেশি।
ভোগান্তি এড়াতে অনেক খামারি এবারও অনলাইন ও অফলাইন উভয় পদ্ধতিতেই পশু বিক্রি করছেন। খামার থেকেই সরাসরি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পশু পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। হাটে আসা ক্রেতারা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় পশুর দাম কিছুটা বেশি হলেও বাজারে সব আকারের গরুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।
বগুড়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রায়হান জানান, নিরাপদ কোরবানির পশু নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ খামারিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছে। এছাড়া রোগাক্রান্ত পশু শনাক্ত করতে প্রতিটি পশুর হাটে বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।