প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সনদ ও গণভোটের রায়; রাজবন্দীদের অভিজ্ঞতা ও জবানবন্দী' শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে গণআকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন, গণভোটের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাজবন্দীদের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল নিপীড়ন, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। দেশের প্রায় ৭০ ভাগ ভোটার জুলাই সনদে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে, জুলাই সনদ শহীদের রক্তে ও কারাবন্দীদের অশ্রূতে লেখা সনদ। আসুন যারা হ্যাঁ ভোট দিয়েছি সকলে মিলে গণভোটে হ্যাঁ ফোরাম গঠন করি। আমি সরকারকে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম বলেন, জুলাই কেবল একটি আন্দোলনের নাম নয়; এটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও সংগ্রামের প্রতীক। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে স্বৈরাচারী সরকার ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে আমাকেও ও হাসনাতকে তুলে নিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ এবং হুমকি প্রদান দেয়। জোর করে নেয়া বক্তব্য কাট কপি করে মিডিয়া গুলোতে প্রচার করে। কিন্তু বাংলাদেশপন্থী কিছু সাংবাদিক আমাদের মূল বক্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে তুলে ধরে।
এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য পূরণ হবে না। বিএনপির সেই পূর্বের স্বৈরাচার আওয়ামীলীগের পদঙ্ক অনুসরণ করছে। কেবল জুলাই সনদই পারে বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে। সরকার হিসেবে বিএনপিকেই জনগণের ভোট ও মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ'র কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই আন্দোলনের শহীদ, আহত ও রাজবন্দীদের আত্মত্যাগকে কেবল স্মরণ করলেই চলবে না, তাদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আজকের সময়ের প্রধান দাবি। ইতিহাস তাদেরই সম্মানিত করে, যারা শহীদদের রক্তের ঋণ আদায়ে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে।
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ছাত্র-আন্দোলনের সভাপতি মাসুদ রানা জুয়েল বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ইতিহাস কোনোভাবেই বিস্মৃত হওয়ার নয়। এখনো জুলাইয়ের রাজবন্দীদের স্বীকৃতি ও তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরার কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীন তারা অন্যান্য ছাত্রসংগঠন সমূহের যে অবদান সে সম্পর্কে কোন কথা বলেনি।
বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ'র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আকিব হাসান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান মধ্য দিয়ে জনগণ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের সবার। রাজবন্দীদের অভিজ্ঞতা ও জবানবন্দী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে। একইসঙ্গে জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে শহীদ ও সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।
জুলাই রেভুলেশন এলাইয়েন্সের সহ-সভাপতি আহমেদ সামরান বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল মানুষের অধিকার ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াই। আমাকে পুলিশ যখন নিয়ে যায় আমি জানতাম না বেঁচে ফিরব কিনা। অনান্য মানুষের মতো গুম-খুন হবো কিনা অথচ সেই নিপীড়ক পুলিশের কোন কার্যকর সংস্কার করা হয়নি। জুলাইয়ের শহীদ ও নির্যাতিতদের স্বপ্ন বাস্তবায়নই হবে তাদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
মাঈনুল ইসলাম বলেন, রাজবন্দীদের অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। এই ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। যারা জীবন দিয়েছেন, কারাবরণ করেছেন এবং নির্যাতন সহ্য করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
জুলাই রাজবন্দী এলায়েন্সের মুখ্য সংগঠক অর্ণব হুসাইন নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, কারাগারের নির্যাতন ও দমন-পীড়ন আমাদের মনোবল ভাঙতে পারেনি। বরং গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার আরও দৃঢ় করেছে।রাজবন্দীদের স্মৃতি ও জবানবন্দী জাতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইনিভার্সিটির শিক্ষাথী সিরাজুম মনিরা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীরা সাহস, ত্যাগ ও নেতৃত্বের যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমার চোখের সামনে আমার বন্ধুকে শহীদ হতে দেখেছি। জুলাইয়ের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মকে আরও সক্রিয় ও সংগঠিত ভূমিকা পালন করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামসুজ্জামান অমি বলেন,
জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, ভোটাধিকার হরণ এবং জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণপ্রতিরোধ। নতুন বাংলাদেশের প্রশ্নে কোনো আপস নয়, শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা নয়, বরং তাদের স্বপ্নের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার।