• ঢাকা |

জুলাই অভ্যুত্থানের স্মরণে ছাত্রশিবিরের স্বর্ণপদক প্রদান, শহীদ পরিবারকে সম্মাননা


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদান স্মরণে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেধাবীদের সম্মাননা; জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে নেতাদের বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার উদ্যোগে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদান স্মরণে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বর্ণপদক ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের কনভেনশন হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্য, আহত অংশগ্রহণকারী, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবির প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সভাপতি রেজাউল করিম। সঞ্চালনা করেন শাখার সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলাম জায়েদ। সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির নিহত শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসাইনের বাবা আলমগীর হোসেন উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দুই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। ক্যাটাগরি ‘এ’-তে ষষ্ঠ সেমিস্টার পর্যন্ত সিজিপিএ ৪.০০ অর্জনকারী তিন শিক্ষার্থী—সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির মো. আবির হোসেন সিজান, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির হাদিউজ্জামান রিফাত এবং শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির মো. আশরাফুল আকন—গোল্ড মেডেল লাভ করেন। এছাড়া ক্যাটাগরি ‘বি’-তে সিজিপিএ ৩.৭০ থেকে ৩.৯৯ অর্জনকারী প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসের বিভিন্ন গণআন্দোলন ও সংকটময় সময়ে শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানেও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সাহস, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি শহীদদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা সবসময়ই স্মরণীয় হয়ে থাকে। তাঁর ভাষ্য, জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মের সাহস, দেশপ্রেম ও ঐক্যের প্রতীক। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের সময় সংগঠনের কর্মীদের সক্রিয়ভাবে রাজপথে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং সে সময় ব্যক্তিগত কৃতিত্বের চেয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনই ছিল সবার প্রধান লক্ষ্য। তিনি শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের সঠিক বয়ান তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, জুলাই আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও আন্দোলনের ভাষায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি বলেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেতৃত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্দোলনের গতি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক ফখরুল ইসলাম।

এ সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ড. আকরাম উদ্দিন এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ড. তাজওয়ার বক্তব্য দেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনে আহত উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বি, শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সেলিম তালুকদারের বাবা সুলতান তালুকদার এবং বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি মুহিব্বুল্লাহ আল হোসাইনী, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পশ্চিম শাখার সভাপতি শান্ত তালুকদার, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা নাঈম আবেদীন, জাতীয় ছাত্র সমাজের আল সাইমুম এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির আহ্বায়ক নুর আলম বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও অবদান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তাদের বক্তব্যে জুলাই অভ্যুত্থান, শিক্ষার্থীদের ভূমিকা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। এগুলো সংশ্লিষ্ট বক্তাদের নিজস্ব বক্তব্য।