• ঢাকা |

গণভোট ইস্যুতে বিএনপিকে ‘অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা, রাজপথের হুঁশিয়ারি


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

এমএম রহমাতুল্লাহ: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা গণভোটের ফল বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে সরকারের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে গণভোটে জনগণের রায় উপেক্ষার অভিযোগ তুলে বিএনপিকে "অগণতান্ত্রিক দল" হিসেবে অভিহিত করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "গণতান্ত্রিক দল জনগণের মতামত মেনে চলে। কিন্তু গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায় উপেক্ষা করার পর বিএনপিকে গণতান্ত্রিক দল বলা যায় না।"

তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের মতামত অগ্রাহ্য করে বিএনপি একটি অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে এবং দলটির রাজনীতি জনকল্যাণের পরিবর্তে দলীয়করণের দিকে ঝুঁকেছে।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি আদায়ে জামায়াতে ইসলামী সংসদের ভেতরে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভূমিকা রাখছে। তবে সরকার যদি জনগণের রায় কার্যকর না করে, তাহলে আন্দোলন সংসদ থেকে রাজপথে গড়াবে।

তার ভাষায়, "সরকার গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে সংসদের লড়াই রাজপথে চলে আসবে। জনগণের রায় অমান্য করলে জনগণই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করবে।"

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, "যারা জুলাইকে মুছে দিতে চায়, তাদেরকেই ইতিহাস থেকে মুছে যেতে হবে। জনগণের বিপক্ষে গিয়ে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না।"

আওয়ামী লীগের পতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, জনগণের বিরোধিতা করায় দলটি ক্ষমতা হারিয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রতিও একই ধরনের পরিণতির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। তার দাবি, ওই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল জুলাই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা, কিন্তু জামায়াত রাজনৈতিক দূরদর্শিতার মাধ্যমে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয়।

তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছে বিএনপি, কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দলটি ব্যর্থ হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের জন্য পৃথক কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারই এখন জনগণের প্রধান দাবি।

সমাবেশ শেষে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই সনদ কার্যকরের দাবিতে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে একটি গণমিছিল বের হয়। মিছিলটি পল্টন, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও হাইকোর্ট এলাকা হয়ে মৎস্য ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পথসভায় ডাকসুর ভিপি মোহাম্মদ আবু সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি সুযোগ পেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করারও অঙ্গীকার করেন তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা, যার মধ্যে ছিলেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, দেলাওয়ার হোসেন, আব্দুল মান্নান, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতারা। গণমিছিল ও সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর এ কর্মসূচি কেবল স্মরণসভা নয়, বরং চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে গণভোট, জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার এবং বিএনপির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য রাজনৈতিক সমালোচনা—এসব ইস্যু আগামী দিনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক ও মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।