• ঢাকা |

জবি ক্যাফেটেরিয়ার পানির ফিল্টার বিকল, ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তর যেন ‘ডাক্তারের চেম্বার’


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাফেটেরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পানির ফিল্টার বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বারবার ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরে জানানো হলেও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একটিমাত্র ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে, যেখানে মাত্র ৫০টি আসন। ক্যাফেটেরিয়ার ৫টি পানির ফিল্টারের মধ্যে বর্তমানে ৩টি নষ্ট হয়ে আছে। তীব্র গরমে পরিষ্কার পানির অভাব শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে ছাত্র কল্যাণ পরিচালক এ এম. রিফাত হাসান বলেন, “পানির ফিল্টার সংস্কারের কাজ ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের। আমরা শুধু অনুরোধ করতে পারি। আমি আগে থেকেই বলেছি, কিন্তু তারা এখনও সংস্কার করেনি। শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণে আমরা সবসময় প্রস্তুত।” অন্যদিকে চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো: হেলাল উদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “পানির ফিল্টারের দায়িত্ব ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের। আমি তাদেরকে জানিয়েছি এবং যারা ফিল্টার স্থাপন করেছে তাদের ফোন দিয়েছি, কিন্তু রিসিভ করেনি। পরিবহন প্রশাসক কর্তৃপক্ষকে কল দিলে হয়তো দ্রুত সমাধান হবে।”

সরেজমিনে দেখা যায়, "দুই পক্ষই দায়িত্ব এড়িয়ে একে অপরের দিকে ‘ঠেলে দিচ্ছে। ছাত্র কল্যাণ পরিচালক বলছেন, এটি ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের কাজ; চিফ ইঞ্জিনিয়ার বলছেন, এটি ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের কাজ।" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তর এখন যেন ইঞ্জিনিয়ারের অফিস না, বরং ডাক্তার দেখানোর চেম্বার—শুধু পরামর্শ দেয়, চিকিৎসা নয়!”
আরেকজন বলেন, “আমরা যখন অভিযোগ করি, তখন বলে—দেখছি, করবো; কিন্তু কাজের দেখা নেই। মনে হয় ফিল্টার মেরামত এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে জটিল অপারেশন!”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া, এক শিক্ষার্থী তার পোস্টে লেখেন, “প্রশাসনের অক্ষমতা নাকি নীরবতা? আমার প্রাণপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায্য দাবিগুলো আন্দোলনের পরও এখনও অধরা। বড় সমস্যা হোক বা ছোট, প্রশাসনের নীরবতা আমাদের মতো নবীন স্বপ্নবাজদের আশা ধীরে ধীরে শুষে নিচ্ছে।”

তিনি আরও লিখেন, “দুই মাস হতে চলল আমরা (২০তম আবর্তন) ক্যাম্পাসে এসেছি, কিন্তু ক্যাফেটেরিয়ার ফিল্টারের কার্যকারিতা দেখিনি। অন্য ফিল্টারগুলোর পানির প্রবাহ এত ধীর যে খাওয়ার পর লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয়। অথচ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৯৭ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন হয়েছে। বাজেট বাড়লেও কেন আমরা এমন অবহেলার শিকার?”

শিক্ষার্থীরা দ্রুত পানির ফিল্টার মেরামত এবং মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়—“আমাদের অধিকার আমাদের বুঝিয়ে দিতে হবে, LOUD AND CLEAR!”