• ঢাকা |

সিডরে পন্টুন ভেসে যাওয়ার ২০ বছরেও চালু হয়নি পানগুছি নদীর কলারন-সন্ন্যাসী ফেরি


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৬ মে, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

জাকির হোসেন: নদী পারাপারে ভোগান্তিতে আছেন কয়েক লাখ মানুষ।

ঘূর্ণিঝড় সিডরে ফেরিঘাটের পন্টুন ভেসে যাওয়ার পর দীর্ঘ ২০ বছরেও চালু হয়নি পানগুছি নদীর কলারন-সন্ন্যাসী ফেরি। খরস্রোতা এই নদী পেরিয়ে পিরোজপুর ও বাগেরহাট জেলার তিন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন। এতে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলা ও বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সীমানায় পানগুছি নদীর ওপর কলারন-সন্ন্যাসী ফেরিটি ২০০৬ সালের ৪ আগস্ট চালু হয়। চালুর এক বছর পর সরকার পরিবর্তনের পর ফেরিটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় কলারন প্রান্তের পন্টুন স্রোতে ভেসে গিয়ে চরে আটকে পড়ে। পরে সেটি উদ্ধার করে পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

 

এরপর কেটে গেছে প্রায় দুই দশক। এখনো চালু হয়নি এই গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাট। ফলে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারযোগে নদী পারাপার করছেন। অনেক সময় উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যেই চলতে হয় নৌযান, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা রহমতুল্লাহ বলেন, বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে নদী পার হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত ফেরি চালুর দাবি জানাচ্ছি।

 

খাদিজা বেগম বলেন, বাবার বাড়ি জিয়ানগর, শ্বশুরবাড়ি সন্ন্যাসীতে। প্রায়ই এই নদী পার হতে হয়। ঢেউয়ের কারণে সবসময় ভয় কাজ করে।

 

চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, ফেরি চালু থাকলে এই রুট দিয়ে যাতায়াত সহজ ছিল। এখন মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে। দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রায়ই। ফেরি চালু হলে আবার এলাকাটি সচল হয়ে উঠবে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, ফেরি চালুর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পন্টুন নির্মাণ করবে বিআইডব্লিউটিএ, বাঁধের কাজ করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক নির্মাণ করবে সওজ। ফেরিটি চালুর জন্য আমরা বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।

 

পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল বলেন, ফেরিটি পুনরায় চালু করতে বাগেরহাট প্রান্তে প্রায় সাত কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ প্রয়োজন। এ জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।