• ঢাকা |

জেল: রাজনীতিবিদদের বার্ষিক বনভোজন


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

এম এম রহমাতুল্লাহ: রাজনীতিতে ঢুকলে দুইটা জিনিস ফ্রি পাওয়া যায়—একটা হলো মাইক, আরেকটা হলো হাতকড়া। প্রথমটা দিয়ে ভাষণ দাও, দ্বিতীয়টা দিয়ে ছবি তোলো।  

গ্রেফতার হওয়াটা এখন আর দুর্ঘটনা না, এটা একটা আর্ট। যাকে বলে ‘পারফরম্যান্স আর্ট’। মঞ্চে ওঠার আগে শিল্পী যেমন রিহার্সাল দেয়, রাজনীতিবিদরাও মামলা হওয়ার আগে বক্তৃতা প্র্যাকটিস করে নেয়। “আমি পালাবো না, আমি ফেস করবো!”—এই ডায়লগটা না দিলে তো ইউটিউব ক্লিপটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

গান্ধীজি জেলে গিয়ে রেস্ট নিতেন, পড়াশোনা করতেন। এখনকার রাজনীতিবিদরা জেলে গিয়ে রেস্ট নেয়, ফেসবুক লাইভ করেন। পার্থক্য শুধু এতটুকু—গান্ধী পড়তেন হযরত উমরের জীবনী, আর এখনকাররা পড়ে “জামিন আবেদনের ফরম্যাট”।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো পালাবেন নাকি, উনি বললেন, “এত বড় শরীর নিয়ে কোথায় লুকাবো? সুন্দরবনে গেলেও বাঘ বলবে, ভাই এইটা তো সাইজে মিলছে না!”  
সত্যি কথা, কিছু মানুষের ব্যক্তিত্ব এত বড় হয় যে জেলখানার সেলটাই তাদের জন্য ছোট লাগে।

আর সাঈদী, ফখরুল, মাহমুদুর রহমান, পার্থ—এনারা হলেন সেই ব্র্যান্ডের গ্রাহক যারা “ডিসকাউন্ট” চায় না, বরং রিমান্ড চায়। ফখরুল সাহেব হাঁটতে পারেন না, তবুও দেশ ছাড়েন না। উনি রবীন্দ্রনাথ পড়েন—“তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর, এখনি অন্ধ বন্ধ করো না পাখা।”  
পুলিশ এসে বলে, “স্যার, পাখা বন্ধ করেন, গাড়ি রেডি।”

মাহমুদুর রহমান তো একেবারে ‘ডোনেশন কিং’। বিয়ে করলেন শিল্পপতির মেয়েকে, বাচ্চা নিলেন না, সব টাকা ফাউন্ডেশনে দিয়ে দিলেন। এখন ভাবেন, জামাই যদি এত উদার হয়, শ্বশুরের মনটা কেমন হয়? নিশ্চয়ই বলে, “জামাই, একটু নিজের জন্যও রাখো, জেলখানার ক্যান্টিনে তো খরচ আছে!”

আর পার্থ? শেখ হাসিনার ভাগ্নে হয়েও মন্ত্রী হলেন না। খালেদা জিয়াকে ম্যাডাম, তারেক রহমানকে মেন্টর বললেন। ফলাফল—৫ দিনের রিমান্ড।  
উনি হাসতে হাসতে বলেন, “রাজনীতি করলে গ্রেফতার তো হতেই হবে। না হলে তো লোকে বলবে, উনি রাজনীতিই করেন না, ফেসবুকে শুধু শুভেচ্ছা পোস্ট দেন।”

খালেদা জিয়ার গল্পটা তো আলাদা। বিদেশে যাওয়ার অফার পেয়েও বললেন, “বাংলাদেশের বাইরে আমার কিছু নাই।”  
মানে, উনার পাসপোর্টে শুধু একটাই ভিসা লাগানো—‘জেলখানা ট্যুরিস্ট ভিসা’।

এই হলো আসল রাজনীতিবিদ। মরে যাবে, মচকাবে না। মাফ চাইবে না, বরং বলবে, “মেরে ফ্যালো, কিন্তু মাথা নোয়াবো না।”  
তাহের, সিরাজ শিকদার—এনারা তো প্রমাণ করে গেছেন, রাজনীতিতে মৃত্যুও একটা ব্র্যান্ডিং স্ট্র্যাটেজি। মুজিব সংসদে বললেন, “কোথায় আজ সিরাজ শিকদার?”  
জনগণ উত্তর দিলো, “স্যার, উনি মরে গিয়ে জিতে গেছেন, আর আপনি বেঁচে থেকেও হেরে গেছেন।”

আর অন্যদিকে একদল আছে যারা রাজনীতিকে মনে করে ‘লুটের লাইসেন্স’। গ্রেফতারের নাম শুনলেই কাঁদে, সীমান্তে দৌড়ায়, পালায়।  
কারণ চোর কখনো গ্রেফতার হয় না, চোর পালায়। আর রাজনীতিবিদ কখনো পালায় না, সে হাসতে হাসতে জেলে যায়।

তাই বলি, যদি কখনো দেখেন কোনো নেতা হাসতে হাসতে পুলিশের গাড়িতে উঠছে, বুঝবেন উনি অস্কারের জন্য শর্টলিস্টেড হয়ে গেছেন।  
কারণ রাজনীতিবিদদের কাছে গ্রেফতার মানে শাস্তি না, এটা হলো ‘মুকুট’। আর সেই মুকুটের দামে একটাই জিনিস কেনা যায়—জনগণের সিম্প্যাথি।

বাকিটা ইতিহাস নিজেই লিখে নেয়। কেউ হয়ে যায় ‘শহীদ’, কেউ হয়ে যায় ‘পলাতক’।  

তফাৎ শুধু একটাই—একজন মাথা উঁচু করে জেলে যায়, আরেকজন মাথা নিচু করে পালায়।