নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক ‘পুশ-ইন’ কার্যক্রমকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে ১২ দলীয় জোট। একই সঙ্গে জোটের নেতারা সীমান্ত সমস্যার সমাধানে সামরিক উত্তেজনার পরিবর্তে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীতে ১২ দলীয় জোটের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় এসব বক্তব্য উঠে আসে।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক আইন, কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী যেকোনো একতরফা পদক্ষেপ উদ্বেগের বিষয়। তারা সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূমিকা রাখা স্থানীয় জনগণের সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
জোটের নেতারা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “পুশ-ইনের নামে বাংলাদেশের সীমান্ত, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে পরিচালিত যেকোনো আগ্রাসী অপচেষ্টা দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপসের সুযোগ নেই।”
সভায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কৃষি খাতে অতিরিক্ত চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে ১২ দলীয় জোট অবিলম্বে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জনগণের ওপর নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে না দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।
বক্তারা আরও বলেন, সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়; বরং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। মানবাধিকার, সমতা ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের নীতির আলোকে সীমান্ত সমস্যার সমাধানের ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।
সভা থেকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়। নেতারা বলেন, জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই দেশের চলমান সংকটসমূহের টেকসই সমাধান সম্ভব।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ১২ দলীয় জোটের প্রধান, সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। এতে বক্তব্য দেন জোটের মুখপাত্র ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ড. মহি উদ্দিন একরাম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দিন পারভেজ, ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান এম. এ. বাশার, পিএনপির চেয়ারম্যান ফিরোজ মোহাম্মদ লিটন, নয়া গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান মাস্টার এম. এ. মান্নান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা শওকত আমীন এবং নয়া গণতান্ত্রিক পার্টির মহাসচিব ডা. কাজী ইমরুল কায়েসসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।
সভা শেষে নেতৃবৃন্দ দেশের স্বার্থ, জনগণের অধিকার, জাতীয় মর্যাদা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে ১২ দলীয় জোটের রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মসূচি আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।