• ঢাকা |

জিসান ইস্যু: গুমের অভিযোগ, ধর্ষণ মামলা ও রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে প্রশ্ন উঠছে তদন্ত নিয়ে


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

এমএম রহমাতুল্লাহ: ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসানকে ঘিরে গত কয়েকদিনে একের পর এক ঘটনায় তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একদিকে গুমের অভিযোগ, অন্যদিকে ধর্ষণ মামলা — দুই ঘটনার সময়রেখা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জিসানের সমর্থক ও পরিবার।

সমর্থকদের দাবি অনুযায়ী, জুন মাসের ১ তারিখ রাতে জিসান ‘গুম’ হন বলে সারাদেশে প্রচার শুরু হয়। ভোর ৬টায় জিডি করতে গেলে প্রথমে তা নেওয়া হয়নি, পরে সকাল ১০টায় জিডি নথিভুক্ত হয় বলে অভিযোগ। এর মাঝে মুক্তিপণ চাওয়া এবং ওপার থেকে জিসানের চিৎকার শোনানোর কথাও বলা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দেশ-বিদেশে জিসানের মুক্তি দাবি ওঠে।

পরে জিসানকে পাওয়া গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় তাকে ‘সরকারি হেফাজতে’ নেওয়া হয়েছিল। সমর্থকদের অভিযোগ, জিসানের মোবাইল ফোনের তথ্য নিয়ে একজন নারীর সাথে কথোপকথন পাওয়ার পর তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

পুলিশি নথির বরাত দিয়ে জিসানপন্থীরা বলছেন, মামলার এজাহার অনুযায়ী অভিযোগকারী নারীকে গত মে মাসের ২০ তারিখ ধর্ষণ করা হয়। আর জিসান গুম হন জুনের ১ তারিখ। অর্থাৎ ঘটনার প্রায় ২১ দিন পর। তারা প্রশ্ন তুলছেন, গর্ভপাতের ওষুধ, রক্ত বন্ধের ওষুধ এবং বিয়ের চাপ দেওয়ার যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেই সময়রেখা চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক। তাদের ভাষ্য, “মাত্র ১০ দিনে গর্ভধারণ ও ভ্রূণ তৈরি হওয়া সম্ভব নয়।”

সমর্থকরা আরও দাবি করছেন, জিসানকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না, তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন, এবং মামলাটি “পরিকল্পিতভাবে শিবিরকে কলঙ্কিত করতে” করা হয়েছে। তাদের যুক্তি, শিবিরের মতো সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয়।

পুলিশ জিসানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০ এর ধারা ৯(১) অর্থাৎ ধর্ষণ, ধারা ৩০ অর্থাৎ সহায়তা/প্ররোচনা, এবং দণ্ডবিধির ধারা ৩১৩/৫০৬/৩৪ এ মামলা করেছে বলে জানা গেছে। ধারা ৯(১) এ সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। ধারা ৩১৩ এ নারীর সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত ঘটালে যাবজ্জীবন পর্যন্ত শাস্তি হতে পারে।

১. জিসান প্রকৃতপক্ষে গুম হয়েছিলেন নাকি হেফাজতে ছিলেন — এ বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। 

২. ধর্ষণের অভিযোগের পক্ষে চিকিৎসা রিপোর্ট, ফরেনসিক প্রমাণ ও ডিজিটাল আলামত কী আছে তা তদন্তাধীন। 

৩. জিসান নিজে এখনো গণমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে।

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এ ধরনের মামলায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তই ন্যায়বিচারের পূর্বশর্ত। অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, ভিকটিমের নিরাপত্তা এবং জনগণের জানার অধিকার — তিনটির ভারসাম্য রাখতে হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকে দোষী বা নির্দোষ বলা সমীচীন নয়।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশের সর্বশেষ প্রেস রিলিজ ছাড়া বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ সাধারণত তদন্তের স্বার্থে মামলার সব তথ্য প্রকাশ করে না।

জিসানকে ঘিরে ‘গুম’, ‘ধর্ষণ মামলা’ ও ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ — তিনটি ন্যারেটিভ এখন মুখোমুখি। সত্য-মিথ্যার যাচাই হবে আদালত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে। জনগণ এখন অপেক্ষা করছে জিসানের বক্তব্য এবং তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য।