আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং আরও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। উত্তর আলজেরিয়ার একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে গেলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিকে দেশটির অন্যতম প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ সেদ্দিক আইত মেসাউদেন জানিয়েছেন, শুক্রবার (৩১ জুলাই) সেতিফ শহর থেকে রাজধানী আলজিয়ার্সের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসটি গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রায় ৫০ কিলোমিটার আগে এল কারমা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সিফি ঘরিয়েব বুমেরদেস বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন কয়েকজন আহত ব্যক্তির খোঁজখবর নিয়েছেন এবং চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুন দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে এ ঘোষণা প্রচার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তেব্বুন বলেন, সড়কে মানুষের জীবন নিয়ে যারা অবহেলা করে, তারা ‘সড়কের অপরাধী ও সন্ত্রাসী’। তিনি জানান, দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ হওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আলজেরিয়ার সিভিল প্রোটেকশন সংস্থা জানিয়েছে, বাসটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রযুক্তিগত ও মানবিক—উভয় দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেশটির সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, অতিরিক্ত গতি, চালকের অসাবধানতা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করাই আলজেরিয়ার অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। গত বছর দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৮৩৮ জন প্রাণ হারান এবং ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন, যা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
সিভিল প্রোটেকশন সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দুর্গম খাদ থেকে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করতে কয়েক ঘণ্টা ধরে অভিযান চালানো হয়।
এর আগেও আলজেরিয়ায় একাধিক বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের আগস্টে আলজিয়ার্সের কাছে একটি বাস খাদে পড়ে ১৮ জন নিহত ও ২১ জন আহত হন। একই বছরের ডিসেম্বরে দক্ষিণাঞ্চলীয় বেচার অঞ্চলে একটি বাস উল্টে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়।
সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা আবারও আলজেরিয়ার সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যানবাহনের তদারকি এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।