• ঢাকা |

বাউফলে যুবদল সভাপতির নির্দেশে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে বিদ্যালয়ের জায়গায় নির্মিত দেয়াল


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা ক্ষিপ্ত

পটুয়াখালী সংবাদদাতা: পটুয়াখালী বাউফলের কালাইয়া বন্দরে হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় নির্মিত ইটের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। উপজেলা যুবদলের সভাপতি গাজী গিয়াস উদ্দিনের উপস্থিতিতে এবং নির্দেশে শনিবার (১ আগস্ট) তার লোকজন দেয়াল ভেঙ্গে ফেলে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে ব্যাপক সমালোচনা। 

হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, প্রায় ৫০-৬০ বছর আগে বিদ্যালয়ের নামে কালাইয়া বন্দরে মহাজনপট্টি জামে মসজিদের পাশে কালাইয়া মৌজায় ১১ পয়েন্ট ৭০ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়। যার খতিয়ান নং ২০২৫/৩০০০১০, দাগ নং ১৮২। ওই জমিতে দোকান ঘর তুলে ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল। ঘরগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় তা ভেঙে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার সকাল থেকে শ্রমিকরা দেয়াল নির্মাণের কাজ করছিল। ৮ ফুট উঁচুতে প্রায় ৩৫ ফুট ইটের দেয়াল নির্মাণ করা হয়। এ সময় উপজেলা যুবদলের সভাপতি গাজী গিয়াস উদ্দিন কয়েকজন লোক নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে হামার (হাতুড়ি) ও সাবল দিয়ে পিটিয়ে ইটের দেয়াল ভেঙে ফেলে। এ বিষয়ে তিনি বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সালেহ আহমেদকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। এ ঘটনায় হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গায় দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে যুবদল নেতা গিয়াস উদ্দিন তার লোকজন নিয়ে দেয়ালটি ভেঙ্গে ফেলেছেন। এটা ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি যে অজুহাত দেখিয়ে দেয়ালটি ভেঙ্গেছেন, সেখানে রাস্তায় বিদ্যালয়ের কমপক্ষে চার ফুট জায়গা রয়েছে। বর্তমানে যে সড়কটি রয়েছে তার প্রশস্ত প্রায় আট ফুট। যাতায়াতের জন্য এর বেশি জায়গার দরকার হয় না। অভিভাবককেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি রাস্তা দখল করে দেয়াল দিয়ে থাকে তবে সেটি সড়ক বিভাগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে কিন্তু যুবদল নেতা কোনোভাবেই নির্মিত দেয়াল ভাঙ্গতে পারেন না।

এ ব্যাপারে উপজেলা যুবদলের সভাপতি গাজী গিয়াস উদ্দিন বলেন, যেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষ দেয়াল নির্মাণের কাজ করছিল সেই এলাকাটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে দুটি মসজিদ, দুটি মন্দির ও দুটি মার্কেট রয়েছে। সরু রাস্তার কারণে লোকজনসহ যানবাহন চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে। সেখানে রাস্তার পাশে দেয়াল নির্মাণ করায় রাস্তাটি আরও সরু হয়ে যায়। দেয়ালটি যাতে নির্মাণ করা না হয় সেজন্য এলাকার লোকজন গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে। তারা নিজেরাই আজ দেয়াল ভেঙ্গেছে। আমি কেবল ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহ আহমেদ বলেন, "তিনি বিষয়টি জানার পরে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আগামীকাল রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।"