• ঢাকা |

গাজীপুরে কড়া নাড়ছে শীতের পরশ


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

সাব্বির হোসাইন: ইটের পর ইট, উঁচুদালান আর কারখানার চিমনি থেকে ওঠা ধোঁয়ার শহর গাজীপুর। কর্মব্যস্ত দিন, যান্ত্রিক কোলাহল আর যানবাহনের ব্যস্ততাই যেখানে প্রতিদিনের চিত্র—সেই চেনা শহরের ওপরই এখন ভর করেছে এক অন্যরকম প্রশান্তি। সকালের মিষ্টি রোদ, হিমেল বাতাস আর ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু জানিয়ে দিচ্ছে, রূপসী বাংলায় কড়া নাড়ছে শীত।

​শিল্পনগরীর যান্ত্রিকতাকে পেছনে ফেলে গাজীপুরের রূপ এখন দিনে দিনে বদলে যাচ্ছে। ভোরের আলো ফুটতেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক কিংবা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দু’পাশে জমে থাকা হালকা কুয়াশার স্তর যেন এক স্বপ্নিল জগতের সৃষ্টি করে।

​শালবন ও গ্রামীণ জনপদে শীতের আমেজ

​শহরের ভেতরে শীতের তীব্রতা কিছুটা কম হলেও গ্রামীণ এলাকাগুলোতে প্রকৃতির রূপ একেবারেই ভিন্ন। শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জের পথ ধরে এগোলেই চোখে পড়ে ভোরের সোনালী রোদের সঙ্গে কুয়াশার খেলা। গাছের পাতা থেকে টুপটুপ করে ঝরে পড়া শিশিরকণা আর পাখির কলকাকলিতে সেখানে যেন আলাদা সুর বাজছে।

​ভোরে কাজে বের হওয়া কিংবা প্রাতঃভ্রমণকারীদের পরনে উঠছে হালকা গরম কাপড়—চাদর, সোয়েটার কিংবা জ্যাকেট। এক পোশাকশ্রমিক জানালেন, "দিনে রোদের সময় বেশ গরম থাকলেও শেষ রাতে বেশ ঠান্ডা পড়ে। ভোরে কারখানায় যাওয়ার সময় হালকা শীতের বাতাস গায়ে কাঁপন ধরায়।"

​মোড়ে মোড়ে ধোঁয়া ওঠা পিঠার আমেজ

​শীত আসবে আর বাঙালির পিঠা-পার্বণ হবে না, তা কি হয়? শীতের পরশ লাগতেই গাজীপুরের শিববাড়ী মোড়, জয়দেবপুর স্টেশন রোড, চৌরাস্তা, বোর্ডবাজার এবং টঙ্গীর বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে জমে উঠেছে শীতকালীন পিঠার পশরা।

​সন্ধ্যার পর হতেই ধোঁয়া ওঠা গরম গরম ভাপাপিঠা আর চিতই পিঠার সুবাস বাতাসে ভাসে। ধনেপাতা বা শুঁটকি ভর্তা দিয়ে চিতই আর খেজুরের গুড়ে ডুবানো ভাপাপিঠা খেতে ছোট-বড় সব বয়সের মানুষের ভিড় লেগে থাকে রাত পর্যন্ত।

​প্রস্তুত শীতবস্ত্রের বাজার

​শীতের আগমনী বার্তা পাওয়ার সাথে সাথেই জমে উঠছে কেনাকাটা। টঙ্গী বাজার, জয়দেবপুর হকার্স মার্কেট ও বোর্ডবাজারের কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়া শুরু করেছে। ক্রেতারা এখন থেকেই হালকা ও আরামদায়ক শীতবস্ত্র সংগ্রহের দিকে নজর দিচ্ছেন।

​রোদ আর কুয়াশার এই মনোরম মেলবন্ধন গাজীপুরবাসীর দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনে এক টুকরো স্বস্তি এনে দিয়েছে। যান্ত্রিকতার ক্লান্তি কাটিয়ে কনকনে শীতের আগের এই মিষ্টি আমেজটুকু এখন সবাই  উপভোগ করছেন।