এমএন শাহিনুল ইসলাম, যশোর: আঞ্চলিক সড়ক ও জাতীয় মহাসড়কে দ্রুতগামী বাস ট্রাকের সাথে পাল্লা দ্রুতগতিতে ছুটে চলেছে লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন থ্রি-হুইলার ইজিবাইক, অটোরিকশা ইঞ্জিন চালিত ভ্যানসহ অবৈধ যানবাহন। এসব যানবাহন মহাসড়কে যাতায়াতের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। জেলাগুলোতে ৪ হাজার অটোরিকশা লাইসেন্স প্রদান করা হলেও বাস্তবে কয়েক গুণ বেশি যান চলছে মহাসড়কে সেগুলো ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ ফিটনেস বিহীন। তবে অতিসত্বর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় সচেতন মূলক প্রচার অভিযান ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে এবং চালক অটো রিক্সার লাইসেন্স নবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানান। বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক চলতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ২২ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ বাস ও সিএনজির সাথে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সড়ক প্রতিরোধে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া নিয়ে চলছে জনগণের প্রতিক্রিয়া। তিন চাকার গাড়ির প্রতি বিশেষ নজর রেখে নাগরিক প্রতিনিধিরা নিরাপদ সড়ক চাই। যশোর জেলা জাতীয়তাবাদী দলের প্রভাবশালী নেতা বাহারুল ইসলাম বলেছেন যশোর শহর সহ আশপাশের রাস্তা গুলো অবৈধ রিক্সা ইজিবাইক সিএনজি চলাচলের কারণে যানজট লেগেই থাকে। রাস্তা পারাপার শহর চলাচলের খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্কুল কলেজ মাদরাসা হাসপাতাল জরুরি কোন দুর্ঘটনা ঘটলে মেডিকেল পর্যন্ত যেতে না যেতেই রোগী পথেই মারা যাবে। এছাড়া প্রতিনিয়ত তিন চাকার গাড়িতে অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। সরকারিভাবে তিন চাকার গাড়ি হাইওয়ে রাস্তায় চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও বেপরোয়া ভাবে তা চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। সরকারিভাবে তিন চাকার গাড়ি চলাচল নিষেধাজ্ঞা থাকলে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রাস্তায় চলাচল করছে।
অপরদিকে তিন চাকার গাড়ি চালক মোহাম্মদ রেজাউল ইসলামের সাথে কথা হয়, তিনি বলেন সকাল এসে গাড়িগুলো সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় এক হাজার বারোশো টাকা আয় করি। মালিক মহাজনকে দিয়ে যা থাকে তা দিয়ে সংসার চালাতে হয়। রাস্তায় চলাচল বন্ধ থাকলে কিভাবে চলব। ইজি বাইক চালক জহিরুল ইসলামের সাথে কথা হয় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭০০-৮০০ টাকা আয় করি মালিকের ভাড়া টাকা দিয়ে আমার ঘর ভাড়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে সংসার চালাতে হয়। সরকার বন্ধ করলেও আমরা মানলে কি খাব? এছাড়া সিএনজি ড্রাইভার আখতারুজ্জামান এর সাথে কথা হয় সারাদিন ভাড়ায় চালালেও আমাদের ভাড়ার টাকা পরিশোধ করেও ভালোভাবে সংসার চলে। বন্ধ করলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। এরপর তারা চুরি ডাকাতি ছিনতাই খুন রাহাজানি নানা ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়বে। সরকার তাদের চলাচলের পারমিশন দিলে ভালো হয়।
এদিকে পরিবহন সেক্টরের নেতা আল আমিনের সাথে কথা হয়, তিনি বলেন ২২৭ এর মটর শ্রমিকে আমরা চাকরি করি। রাস্তায় আমাদের দায় দায়িত্ব আছে। ইজিবাইক সিএনজি হাইওয়ে বা শহরের রাস্তায় রাস্তায় চলাচল করায় আমাদের পরিবহন মালিকদের জবাবদিহিতা করতে হয়। কারণ অনেক সময় এই ছোট বড় যানবাহনগুলো দূরপাল্লার যাত্রীদের গাড়িতে ওঠা নিয়ে আমাদের পরিবহন ভাড়া ও যাত্রী কম হয়। তারপরও আমরা অনেক যাত্রীকে ছাড় দিয়ে থাকি মানবিক কারণে। অপরদিকে পরিবহন শ্রমিক নেতা বাসুর সাথে কথা হয়, তিনি বলেন অটো রিক্সা ইজিবাইক সিএনজি সরকারিভাবে হাইওয়ে রাস্তায় চলাচল সরকারি নিষেধ করা হয়েছে তারপরও তারা না চালায় কি করবে। তারা তো কেউ চুরি ডাকাতি করে খায় না। সরকার বন্ধ করলে আমাদের কি করনীয় আছে।
অটো রিক্সা চালক শামসুর রহমান ফিরোজ হাসান সহ একাধিক চালকের সাথে কথা হয় বলেন আমরা ভাড়া চালাই রোজগার করি সংসার চালাতে হয় একদিন ভাড়া না খাটলে সংসার চলে না। তিন চাকার গাড়ি বন্ধ হলে আমরা কিভাবে খাব। কেউ কেউ বলেন এনজিও থেকে সুদে করে কিস্তিতে ঋণ নিয়েছি গাড়ি চালায় সংসার চলে ও এনজিওর কিস্তির টাকা দিতে হয়। হাইওয়ে রাস্তায় মাঝেমধ্যে ভাড়া পেলে যেতে হয়। পুলিশের ফাঁক ফুঁকড় দিয়ে সাবধানে গাড়ি চালাতে হয়। এরপরও পুলিশ হাইওয়ে রাস্তায় ধরে ২৭ শত টাকা জরিমানা করেন। তারপরও চোরা গোপনে চালাতে হয়। সরকার চাপাচাপি করলে আমরা কি করব। এদেশে কর্মসংস্থানের অভাব। এই তিন চাকার গাড়িগুলো বন্ধ হলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। তারা অবৈধ পথে নেমে যাবে। এই কারণে গাড়িগুলো হাইওয়ে রাস্তায় চলাচল সহ বৈধ লাইসেন্স সহ কাগজপত্র দিলে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতাম। ইজি বাইক চালক সেলিম বলেন এনজিওর কিস্তি তুলে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি কিনেছি। সংসার চালাতে হয় ও কিস্তির টাকা বাধ্যতামূলক পরিশোধ করতে হয়। সরকার বৈধভাবে চালাতে দিক অথবা লাইসেন্স প্রদান করুক। বন্ধ করলে আমরা কোথায় যাব। সংসার কিভাবে চালাবো। তাদের দাবি সরকার লাইসেন্স দিয়ে আমাদের সহায়তা করুন। কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হউক।