জহুরুল হক মিলু, নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ঝাঁমারঘোপ খালের ওপর নির্মিত সেতুটি এখন এলাকার মানুষের জন্য 'মরণ ফাঁদে' পরিণত হয়েছে। ৬ বছর আগে সেতুটির আংশিক ভেঙ্গে পড়লেও মেরামতের উদ্যোগ না থাকায় সেতুটি দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে ঝাঁমারঘোপ খালের ওপর নির্মিত হয় ১৩ মিটার দৈর্ঘ্যের ছোট্ট এই সেতুটি।
জানা গেছে , নড়াইল ও মাগুরা এই দুই জেলার সীমানায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন নড়াইল ও মাগুরার কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ আতঙ্ক আর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, এমনকি অসুস্থ রোগীকেও এই ভাঙা সেতু পার হয়ে যেতে হয়। সেতুটি যে কোনো সময় ভেঙ্গে পড়ে প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এলজিইডি জানিয়েছে অনুমোদন পেয়েছি, আগামী এক মাসের ভিতরেই সেতুর নির্মাণ কাজটি শুরু হবে।
স্থানীয়রা জানায়, কয়েক বছর ধরে সেতুর একপ্রান্তে অর্ধেক জায়গা জুড়ে ধসে যেতে থাকে। ধীরে ধীরে পুরো জায়গায় গর্ত হয়ে ভিতরের রড বের হয়ে পড়ে। চার বছর আগে একটি ট্রাক চলতে গিয়ে হেলে পড়ে সেতুটি। এরপর স্থানীয় লোকেরা গর্ত হওয়া স্থানে কয়েকটি কাঠের বড় তক্তা দিয়ে ইজিবাইক, ভ্যান আর কৃষিপণ্য ঘোড়ার গাড়িতে পারাপার করছেন। নসিমন আর ভটভটি চললে কাঁপতে থাকে সেতুটি। বিকল্প কোন পথ না থাকায় বাধ্য হয়েই চলছে পারাপার। সেতুর তলদেশের অবস্থা আরো করুণ। ইটের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সেতুর নিচের দুটো গার্ডার এর একটি ধসে একদিকে হেলে পড়েছে।
ঝামারঘোপ কালিনগর গ্রামে থেকে খলিশাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীরা বলেন, শিক্ষার্থীরা ভয়ে ভয়ে সেতু পার হয়ে স্কুলে যাই। স্কুলে যাওয়ার সময় খুব ভয় লাগে। নিচে তাকাইলে মনে হয় পড়ে যাব। প্রতিদিন ভয় লাগে, কিন্তু যাওয়ার আর কোনো পথ নাই। অনেক সময় ভ্যান যেতে চায় না তখন হেটে স্কুলে যেতে হয় স্কুলে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, আমরা নিজেরাই চলাচলের জন্য কাঠ দিয়েছি। মাঠ থেকে ধান কেটে ঘোড়ার গাড়িতে নিতে হয় বাড়িতে। অনেক সময় গর্তে চাকা আটকে পড়ে। ভয় হয়, কখন যে ভেঙে নিচে পড়ে যাই, তবুও যেতে হয়। কত নেতা আসে যায় কিন্তু এই ভাঙা সেতুর কাজ করে না। অনেক নেতা এসে দেখে চলে যায়, তারপর আর খবর থাকে না।
খলিশাখালি গ্রামে ব্যবসায়ী বলেন, এই সেতুটা ভেঙে থাকায় মাগুরা জেলা থেকে নড়াইল জেলার মিঠাপুর হাটে যেতে গেলে প্রায় ৮ কিলোমিটার নোহাটা ঘুরে মিঠাপুর হাটে যেতে হয়। আমাদের এই দুর্দশা কেউ দেখে না। কষ্টের শেষ নেই আমাদের।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) মো.শাহিন মিয়া বলেন, ঝামারঘোপ কালিনগর এলাকার ১০০ থেকে ১৫০ ছাত্রছাত্রী ঝুঁকি নিয়ে খলিশাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যায়। এই এলাকা থেকে কোনো রোগী মাগুরা নিয়ে যেতে হলে ২০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা এই মানুষগুলো এখন একটাই প্রত্যাশা করছে, যত দ্রুত সম্ভব নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হোক, যাতে তাদের এই ভোগান্তি ও ভয়াবহ ঝুঁকির অবসান ঘটে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নড়াইল নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবির বলেন, আমরা সম্প্রতি প্রকল্প থেকে অনুমোদন পেয়েছি, আশা করছি যে, আগামী এক মাসের ভিতরেই সেতুর নির্মাণ কাজটি শুরু হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে কাজটি শেষ হবে।