লালমনিরহাট প্রতিনিধি, কল্লোল আহমেদ: “সেবার ব্রতে চাকরি”—এই প্রতিশ্রুতি ধারণ করে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ কার্যক্রম লালমনিরহাটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে লালমনিরহাট পুলিশ লাইন্স মাঠে প্রার্থীদের শারীরিক মাপ ও কাগজপত্র যাচাইকরণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমের সূচনা হয়। জেলার প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিংয়ে উত্তীর্ণ শতাধিক প্রার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী এ কার্যক্রমে প্রার্থীদের উচ্চতা, বুকের মাপসহ শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়। প্রতিটি ধাপেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা ও সিসিটিভি নজরদারি রাখা হয়।
নিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধি হিসেবে বিশেষ পুলিশ সুপার সম্রাট মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রেনিং) এস. এম. আশিকুর রহমান দায়িত্ব পালন করেন।
রংপুর রেঞ্জের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান (পিপিএম-সেবা) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক আহমেদ (পিপিএম-সেবা) অংশ নেন। এছাড়া নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে সিভিল সার্জন অফিসের সহকারী সার্জন ডাঃ সাকলাইন আরেফিন এবং আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোছাঃ শাম্মী বেগম দায়িত্ব পালন করেন।
সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ শাহাদত হোসেন সুমা (বিপিএম-বার), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম ফজলুল হক এবং সহকারী পুলিশ সুপার জয়ন্ত কুমার সেনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষে পুলিশ সুপার প্রার্থীদের পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিয়োগের প্রতিটি ধাপেই কঠোরতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত। কোনো ধরনের তদবির বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। প্রার্থীদের দালাল ও প্রতারকদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ প্রলোভন দেখালে বা অর্থ দাবি করলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে।
উল্লেখ্য, নিয়োগ কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপে একাধিক পর্যায়ের যাচাই-বাছাই এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরাই নির্বাচিত হতে পারেন।
প্রথম দিনের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে দিনের কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।